অধ্যাপক বদলি বিল নিয়ে বিধানসভায় তুলকালাম! বামেদের হুঙ্কার দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘টুকরো করে দেব!’

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনের শুরুতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি সংক্রান্ত সংশোধনী বিল ঘিরে তৈরি হলো চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা। বৃহস্পতিবার অধিবেশনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই বিল নিয়ে শাসক ও বিরোধীদের তীব্র বাক্যুদ্ধে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কক্ষ। ভোটাভুটির মাধ্যমে পাস হয়ে যাওয়া এই বিল নিয়ে বাম বিধায়কদের আক্রমণাত্মক জবাব দিতে গিয়ে সুর সপ্তমে তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন ডোমকলের বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন খর্ব করে এবং নিয়োগের শর্ত ভেঙে এই বিল আনা হয়েছে, যা আদতে গৈরিকীকরণের চেষ্টা। বাম বিধায়কের এই মন্তব্যের পরই মেজাজ হারিয়ে চরম আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তোষণের রাজনীতি ও অতীতে বাম আমলের দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘রেড স্যালুট কিষাণজি’ বা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। হস্টেল থেকে তুলে নেওয়ার মতো কড়া ভাষার পাশাপাশি তিনি কটাক্ষ করে বলেন, সমস্যা হলে চাকরি ছেড়ে কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে গিয়ে ‘গণশক্তি’ বিক্রি করতে পারেন।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই বিলের আড়ালে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষাক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চালানো হতে পারে। এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে বিরোধীদের একাংশ বিধানসভা কক্ষ থেকে ওয়াক-আউট করেন। তবে সমস্ত জল্পনা ও বিরোধিতাকে পাশ কাটিয়ে ১৭১টি ভোটের সমর্থনে বিধানসভায় পাশ হয়ে যায় বহুচর্চিত ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও শিক্ষক বদলি (সংশোধনী) বিল ২০২৬’।
সরকারের যুক্তি, শিক্ষাঙ্গনে এক জায়গায় বছরের পর বছর ধরে চলা আধিপত্য ও অচলাবস্থা ভাঙতেই এই বদলি নীতি অত্যন্ত জরুরি। তবে শিক্ষক বদলি সংক্রান্ত এই নয়া আইন কার্যকর হওয়ায় রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি আগামী দিনে আরও কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।