ডিনারে পেঁয়াজ-রসুন নিষিদ্ধ হতেই তুলকালাম! স্কুল সার্কুলার ঘিরে মহারাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক ঝড়

মহারাষ্ট্রের মুম্বইসংলগ্ন ভাইন্দরের সেভেন স্কয়ার অ্যাকাডেমি স্কুলের একটি নতুন নির্দেশিকা ঘিরে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জৈন সম্প্রদায়ের পবিত্র আট দিনের ‘পর্युষণ’ (Paryushana) উৎসব চলাকালীন স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একটি বিতর্কিত নির্দেশিকা জারি করা হয়। ওই সার্কুলারে সাফ জানানো হয়েছে যে, সমস্ত ছাত্র-ছাত্রী যেন তাদের টিফিন বা লঞ্চ বক্সে কোনো ধরনের আমিষ খাবার, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, বিট এবং মাটির নিচে জন্মায় এমন কোনো সবজি বা কন্দমূল না আনে। মীরা রোড ইস্ট এলাকায় অবস্থিত সিবিএসই (CBSE) বোর্ডের এই স্কুলটিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের এবং ভিন্ন সংস্কৃতির বহু পড়ুয়া পড়াশোনা করে। এমন একটি বহুত্ববাদী প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় উৎসবের কথা মাথায় রেখে সমস্ত শিশুর খাদ্যতালিকাগত অভ্যাসের ওপর এহেন বাধ্যবাধকতা চাপানোয় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা। তাঁদের মতে, ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমস্ত শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের স্বাধীনতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে এই ধরনের একপেশে নির্দেশিকা জারি করা একেবারেই অনুচিত।

এই ঘটনার পরেই মাঠে নেমে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন শিবসেনা (ইউবিটি) দলের প্রবীণ নেতা তথা সাংসদ সঞ্জয় রাউত। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (X) ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি এই সার্কুলারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন যে, মীরা রোড এলাকার এই স্কুলটি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিজেপি বিধায়ক নরেন্দ্র মেটার সঙ্গে যুক্ত। প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, মহারাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীরা নিজেদের হিন্দু ধর্মের একচ্ছত্র রক্ষাকর্তা হিসেবে দাবি করলেও, রাজ্যের এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিতে এ ধরনের নগ্ন হস্তক্ষেপ তাঁরা কীভাবে সহ্য করছেন? সঞ্জয় রাউতের দাবি, সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাসের ওপর এই নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইস্যুগুলোর চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক। সাধারণ মানুষ কী খাবে বা কী খাবে না, তা কি এবার কিছু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তি নির্ধারণ করবেন? এমনকি আগামী দিনে মুম্বইয়ের ঐতিহ্যবাহী গণেশ উৎসবের ওপরও এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র চলছে কিনা, সেই প্রশ্নও জোরালোভাবে তুলেছেন এই বিরোধী নেতা। শহীদ ১০৬ জন শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই মহারাষ্ট্রের বহুমুখী সংস্কৃতি আজ ধ্বংসের মুখে বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তিনি।