বিহার ভোটে AI-এর ফাঁদ! ‘ডিপফেক’ ভিডিও রুখতে নির্বাচন কমিশনের চরম সতর্কতা, নয়া নির্দেশিকা জারি

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের (Bihar Assembly Election) দিনক্ষণ ঘোষণার পরই প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে ঐতিহাসিক নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন (ECI)। আসন্ন নির্বাচন ও আটটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence)-ভিত্তিক কনটেন্ট ব্যবহারে রাজনৈতিক দলগুলিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে কমিশন। ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, AI টুল ব্যবহার করে যদি কোনো ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়, তবে তা আদর্শ আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘনের শামিল হিসেবে দেখা হবে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
AI কনটেন্টে বাধ্যতামূলক লেবেল
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, যদি কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তারকা প্রচারক AI-Generated, Digitally Enhanced বা Synthetic Content ব্যবহার করেন, তবে সেই কনটেন্টটিকে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বা প্রচারমূলক ভিডিওতেও এই ‘লেবেল’ বা ডিসক্লেমার থাকা বাধ্যতামূলক।
সাম্প্রতিক সময়ে ডিপফেক ভিডিও এবং AI-নির্ভর বিকৃত তথ্য প্রচারের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে কমিশন। তাই এই ধরনের কনটেন্টের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনী প্রচারে প্রযুক্তির ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়, তবে তা যেন কোনোভাবেই বিভ্রান্তি না ছড়ায়। নির্বাচনের মর্যাদা রক্ষাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে কড়া নজর
কমিশন আরও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, আদর্শ আচরণবিধি অনুযায়ী, এক দল অন্য দলের সমালোচনা করতে পারে, তবে তা শুধুমাত্র নীতি, কর্মসূচি ও কাজের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। ব্যক্তিগত জীবনের অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে অভিযোগ তুলে প্রচার চালানো সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রতিটি প্রচারমূলক পোস্ট ও ভিডিওর ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গ করলে তাৎক্ষণিকভাবে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসিআই।