‘ভুল করে মোটর চলেছে’,-ছাদ ধুয়ে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে কাঁপছে বাংলাদেশ!

রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এবং তাঁর পরিবারের চার সদস্যের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ বার সরাসরি পুলিশের বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্টের গুরুতর অভিযোগ উঠল। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় ধৃত সিদ্ধার্থ দাসের দাদা পার্থ দাস দাবি করেছেন, গণপতিকে খুনের ঠিক পরপরই পুলিশ সুকৌশলে বাড়ির ছাদ জল দিয়ে ধুয়ে সমস্ত প্রমাণ লোপাট করেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর ভাইকে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
কী দাবি করলেন ধৃতের দাদা?
রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার জনের এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার চটজলদি পুলিশি সমাধান ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই গোটা বাংলাদেশ জুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা শাখার (DB) হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর মাঝেই নতুন করে প্রশ্ন তুললেন পার্থ দাস।
তাঁর দাবি, ঘটনার দিন সন্ধ্যার পরে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির সমস্ত আলো নেভানো ছিল। সেই সময়ে তিনি লক্ষ করেন যে বাড়ির ছাদ থেকে জল উপচে নিচে গড়িয়ে পড়ছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মীদের কাছে এই বিষয়ে জানতে চান। পার্থর অভিযোগ, সেই সময় পুলিশ তাঁকে সাফ জানিয়ে দেয় যে ভুল করে মোটরের সুইচ চালু হয়ে যাওয়ায় জলের ট্যাঙ্ক উপচে পড়ে ছাদ ভিজে গেছে। এমনকি, এই বিষয়ে যাতে কাউকে মুখ না খোলা হয়, তার জন্যও তাঁকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
পুলিশের সাফাই ও ধন্দ
পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এই প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ সম্পর্কে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে জানান, “ভুল করে আমাদের কেউ হয়তো মোটর চালিয়ে দিয়েছিল। তার ফলে ট্যাঙ্ক থেকে জল উপচে পড়েছে। লাইটের সুইচ দিতে গিয়ে কেউ ভুল করে মোটরের সুইচ অন করে ফেলেছিল। কর্মীরা তো আর ঘরের কোণ চেনে না! মোটর চলার কারণে জল উপচে পড়া দেখে পরে উপরে গিয়ে তা বন্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্র নেই।”
যে ৯টি প্রশ্ন ঘিরে এখনও ধন্দ কাটছে না
পুলিশ তড়িঘড়ি এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করার দাবি করলেও জনমানসে এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতিতে এখনও বহু প্রশ্ন অমীমাংসিত রয়ে গেছে:
মাদক সেবনের তত্ত্ব: মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার জন্যই এই জঘন্য খুন—পুলিশের এই তত্ত্ব অনেকেই বিশ্বাস করতে নারাজ। অনেকের মতেই, এটি বড় কোনো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা।
নির্লিপ্ততা: চারজন মানুষকে নির্মমভাবে খুনের পরেও অভিযুক্তরা কীভাবে এতটা স্বাভাবিক ও নির্লিপ্ত থাকতে পারে? এমনকি খুনের পরেও তারা নাকি ওই বাড়িতেই স্নান ও খাওয়া-দাওয়া করেছিল!
সিসিটিভি ছাড়া গ্রেপ্তার: কোনো সিসিটিভি ফুটেজ বা জোরালো প্রমাণ ছাড়া পুলিশ কীভাবে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দু’জনকে পাকড়াও করল?
অন্যের যোগসাজশ: এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কি আরও কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা চক্র জড়িত রয়েছে?
ছাদ নির্বাচন: পাশের বাড়ির তিনতলার সম্পূর্ণ ফাঁকা ছাদ বা স্পেস থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কেন গণপতির বাড়ির ছাদ ব্যবহার করল?
শিশুকে খুন কেন?: ঘুমিয়ে থাকা ছোট্ট শিশু প্রিয়মকে কেন টার্গেট করে খুন করা হলো?
বিদ্যুৎ সংযোগ: শিক্ষক গণপতির বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ কারা এবং ঠিক কোন সময়ে বিচ্ছিন্ন করেছিল?
সিন্ডিকেটের হুমকি: বাড়ি তৈরির একদম শুরু থেকেই স্থানীয় সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের পক্ষ থেকে গণপতি চক্রবর্তী হুমকি পেতেন বলে অভিযোগ, নেপথ্যে কি তারাই?
টাকার লোভ: সম্প্রতিই ব্যাংক থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন নিহত শিক্ষক। এই খুনের নেপথ্যে কি তবে আর্থিক লুটপাটের কোনো উদ্দেশ্য ছিল?