‘দেশে দুই ধরনের আইন!’ বেরিলী যাওয়ার আগেই গৃহবন্দী কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদের বিস্ফোরক অভিযোগ, কেন পদক্ষেপ UP পুলিশের?

উত্তরপ্রদেশের বেরিলীতে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ (I Love Muhammad) সংক্রান্ত হিংসাত্মক প্রতিবাদের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার আবহে বড় পদক্ষেপ নিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে বেরিলী যাওয়ার আগেই কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদকে গৃহবন্দী করা হয়েছে।

বুধবার, ১লা অক্টোবর তাঁর বেরিলী সফরের কয়েক ঘণ্টা আগেই সাহারানপুরে মাসুদের বাসভবনের বাইরে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। তাঁর গতিবিধি রুখতে মঙ্গলবার গভীর রাত থেকেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সংবাদসংস্থা আইএএনএস-কে মাসুদ এই খবর নিশ্চিত করে জানান, তিনি তাঁর দলবল নিয়ে বেরিলীতে ডিআইজি এবং এডিজি-এর মতো আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে যাচ্ছিলেন। তিনি নিজেকে ‘শান্তির রক্ষক’ দাবি করে বলেন, “আমরা কোনো পরিস্থিতিতেই ঘৃণা ছড়াই না।”

তবে এই পদক্ষেপের জেরে সরকারের বিরুদ্ধে ‘বৈষম্যমূলক’ আচরণের অভিযোগ তুলেছেন মাসুদ। তিনি বলেন, “এখন দেশে দুই ধরনের আইন কার্যকর রয়েছে, একটি আমাদের জন্য এবং অন্যটি অন্যদের জন্য।” তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ বেছে বেছে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করছে। “তারা আমাদের উপর লাঠিচার্জ করে, রবার বুলেট ব্যবহার করে, যা স্পষ্টতই প্রমাণ করে দেশে দুটি আইন রয়েছে। দেশের প্রতিটি মুসলিমের এটা বোঝা উচিত।”

উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর এক ধর্মগুরু তৌকির রাজা খান পরিকল্পিত বিক্ষোভ বাতিল করার পরেও একটি মসজিদের বাইরে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ পোস্টার হাতে বিশাল জনতা জড়ো হলে বেরিলীতে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তৌকির রাজা খান বর্তমানে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

গৃহবন্দী থেকেও মাসুদ দেশের দায়িত্বশীল মুসলিম ও আলেমদের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন জানিয়েছেন: “আমি দেশের দায়িত্বশীল মুসলিম এবং আলেমদের কাছে অনুরোধ করছি যে তারা এগিয়ে এসে নিশ্চিত করুন যে মসজিদ শুধুমাত্র প্রার্থনার জন্য। মসজিদকে এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত নয় যেখানে মানুষ নামাজ পড়তে আসে এবং তারপর হাতে পোস্টার নিয়ে প্রতিবাদ শুরু করে, এবং সমস্ত নামাজী সেই ভিড়ের অংশ হয়ে যায়। এই পথে চললে বিজেপির এজেন্ডা আরও শক্তিশালী হতে থাকবে।”