এশিয়া কাপে ফের পাক বধ, ‘অপারেশন সিঁদুর’ খোঁচা দিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

এশিয়া কাপ ফাইনাল (Asia Cup 2025) জিতে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আবারও প্রমাণ করল ভারত। টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে পাকিস্তানকে (Pakistan) দু’বার হারানোর পর, ফাইনালের প্রত্যাশিত চাপ সামলে শেষ হাসি হাসল নীল জার্সিধারীরাই। এই ঐতিহাসিক জয়ের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে পড়শি দেশকে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) খোঁচা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)।

মোদী কী বললেন?
ভারত এশিয়া কাপ জেতার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “মাঠেও অপারেশন সিঁদুর। আর ফলাফল সেই একই। ভারত জিতেছে।”

প্রধানমন্ত্রীর এই এক বাক্যের মন্তব্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পহেলগাম হামলার পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘সিঁদুর অভিযান’-এর ইতিহাস। সেই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস হয় এবং ১০০-র বেশি সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়েছিল। এশিয়া কাপের ফাইনাল জেতার পর কার্যত সেই সামরিক সাফল্যের সঙ্গেই ক্রিকেট মাঠের জয়ের তুলনা টেনে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

ফাইনালে ভারতের দুরন্ত জয়:
এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের শুরুটা দেখে মনে হয়েছিল তারা বড় স্কোর গড়বে। কিন্তু মিডল অর্ডারের পরিচিত রোগ ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ওপেনিং জুটিতে ৮৪ রান ওঠার পরও তাদের ইনিংস থেমে যায় ১৯.১ ওভারে মাত্র ১৪৬ রানে। শেষ সাত উইকেটের পতন হয় মাত্র ৩২ রানে।

ভারতীয় স্পিনারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন পাক ব্যাটাররা। কুলদীপ যাদব একাই নেন ৪ উইকেট, অক্ষর ও বরুণ নেন ২টি করে উইকেট। শেষ দুটি উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস থামান বুমরাহ।

জয়ের লক্ষ্যে নেমে ভারতও শুরুতেই কিছুটা নড়বড়ে হয়। অভিষেক শর্মা (৫) এবং শুভমান গিল (১২) দ্রুত ফিরে যান। একসময় ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৮ রান ওঠার পর অনেকেই কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন। তবে শিবম দুবে এবং তিলক বর্মার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ভারত জয় নিশ্চিত করে।

ট্রফি বয়কট করে ‘বদলা’ ভারতের:
ফাইনালে মাঠে যেমন জয় এল, তেমনই মাঠের বাইরেও নাটক অব্যাহত ছিল। ম্যাচ শেষের অনুষ্ঠানে ‘বিশেষ’ একজনের উপস্থিতির কারণে এশিয়া কাপের আসল ট্রফি মঞ্চে তুলতে অস্বীকার করেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবরা (Suryakumar Yadav)।

সেই ‘বিশেষ’ ব্যক্তিটি হলেন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) চেয়ারম্যান তথা পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi)। পূর্বঘোষিত নীতিতেই অনড় থেকে ভারতের এই ‘বয়কটের সিরিজে’র উপসংহার এভাবেই লেখা হলো। রাজনৈতিক সংঘাতের ছাপ ক্রিকেটের মাঠেও যে বজায় রইল, তা স্পষ্ট হয়ে গেল এই ঘটনায়।