‘মৃত্যুকে রোম্যান্টিসাইজ করে সস্তা প্রচার!’ রাহুলের মৃত্যুর পর অভিনেত্রীর প্রেম প্রমাণের দাবি ঘিরে বিতর্ক চরমে

জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণ এবং তার পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে শুরু হওয়া নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি মডেল তথা অভিনেত্রী মৌমিতা পণ্ডিত প্রকাশ্যেই দাবি করেছেন যে, অভিনেতা রাহুলের সঙ্গে তাঁর গভীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় ছিল। মৌমিতার এই বিস্ফোরক দাবির পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বিশেষ করে ইন্ডাস্ট্রির একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সরাসরি মৌমিতার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মৌমিতা পণ্ডিত দাবি করেন, তালসারিতে শ্যুটিংয়ে যাওয়ার ঠিক আগেও রাহুলের সঙ্গে তাঁর ভিডিও কলে কথা হয়েছিল এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁরা সম্পর্কে ছিলেন। এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নেটপাড়ায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের এই ধরনের জনসমক্ষে প্রকাশ কতটা শোভনীয়।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রখ্যাত অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ও কড়া ভাষায় পোস্ট করেন। তিনি সরাসরি মৌমিতার নাম উল্লেখ করে লেখেন, প্রেম অত্যন্ত ব্যক্তিগত বিষয় এবং তা গোপনীয় থাকাই বাঞ্ছনীয় ছিল। বিশেষ করে যখন সেই মানুষটি আজ এই পৃথিবীতে নেই এবং তাঁর একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান সহ পরিবারের অন্যান্য শোকাহত সদস্য ও তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী বেঁচে রয়েছেন। সুদীপ্তা প্রশ্ন তোলেন, রাহুল যদি সত্যিই মৌমিতাকে ভালোবেসে থাকেন, তবে তাঁর পরিজনদের সম্মানের কথা কেন ভাবা হলো না? তিনি আরও লেখেন, সম্মান ছাড়া কোনো ভালোবাসাই হতে পারে না, একে কেবল ভালোবাসার ভান বলাই চলে।
সুদীপ্তার এই পোস্টের পর পরিচালক রাতুল মুখোপাধ্যায়ও নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি সুদীপ্তার পোস্টটি শেয়ার করে লেখেন, নিজের মৃতপ্রায় কেরিয়ারকে আবার সঠিক জায়গায় ফিরিয়ে আনতে মানুষ কত নিচে নামতে পারে, তা দেখে সত্যি ঘৃণা ও রাগ হয়। তাঁর মতে, মৃত্যু নিয়ে রোম্যান্টিসাইজ করে জনমানসে মনোযোগ পাওয়ার এই প্রবণতা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন।
ইন্ডাস্ট্রির এই দুই তারকার জোরালো প্রতিবাদের পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন অনেকেই প্রয়াত অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনকে সম্মান জানানোর কথা বলছেন, তেমনই অন্যদিকে এমন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করারও দাবি উঠেছে। সব মিলিয়ে রাহুলের প্রয়াণের শোকের আবহ কাটার আগেই এই নতুন বিতর্কে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে টলিপাড়া।