অনলাইনে পুজো সম্প্রচার, নিরাপত্তার কড়াকড়ি! বেলুড় মঠের পুজোয় কেন এবার ‘ঐতিহ্য ও ভক্তির মিলন’ দেখছেন দর্শকরা?

সমস্ত উপাচার পালন করে মহাষষ্ঠীর কল্পারম্ভের মাধ্যমে শুরু হলো বেলুড় মঠের দুর্গাপূজা। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা ও মঠের প্রবাহমান ঐতিহ্য মেনে রবিবার সকালে এই বিশেষ পুজো অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চমীতে মঠে দেবী দুর্গার বোধন সম্পন্ন হয়েছে।
এদিন সকাল থেকে মঠের বিশাল প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে হাজারো ভক্ত এই বিশেষ পুজো প্রত্যক্ষ করেন। প্রদীপের আলো, ধূপের ঘ্রাণ, ঢাক, ঘণ্টা ও বাঁশির শব্দ—সব মিলেমিশে সৃষ্টি হয় এক অন্যরকম আধ্যাত্মিক পরিবেশ। ভক্তরা দেবী পুজোর প্রাঙ্গণে বসে ফুল, কুমড়ো, আখ এবং চাল দিয়ে সাজানো কাঠামোর চারপাশে দেবীর আগমন প্রত্যাশা করেন।
কল্পারম্ভের বিশেষ রীতি
মঠের প্রবীণ ও নবীন সন্ন্যাসীরা জানিয়েছেন, কল্পারম্ভ রীতি শুরু হয় মহাষষ্ঠীর ভোর ছ’টায়। ষষ্ঠীর সকালেই দেবী মূর্তিকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়, যেন তিনি শারদোৎসবের আঙিনায় পা রাখার জন্য প্রস্তুত থাকেন।
মঠের সন্ন্যাসী ও সেবকরা নিয়ম মেনে পুজোর আচার পরিচালনা করেন। প্রতিটি ধাপ পুণ্য ও নিয়মের মিশ্রণে ভরা। কল্পারম্ভ আচার চলতে থাকে এদিন বিকেল পর্যন্ত; এরপর ঢাকের তালে ভক্তরা আরতি এবং প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দেবীর উপস্থিতি অনুভব করেন। ভক্তদের মতে, মহাষষ্ঠীর কল্পারম্ভে দেবীর আগমন সকলের মনে নতুন শক্তি জাগায়।
বিশেষ ব্যবস্থা ও অনলাইনে পুজো
মঠ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের দুর্গাপূজায় দুর্গা প্রতিমা বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে, যার ফলে দর্শকরা ঐতিহ্য ও ভক্তির মিলন অনুভব করতে পারেন। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য মঠ কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। মঠের ভিতরে এবং আশেপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া, যারা মঠে আসতে পারেননি, তাদের জন্য মঠের পক্ষ থেকে অনলাইনে পুজো অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। ভক্তরা মঠের অফিসিয়াল ফেসবুক, টুইটার ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে সব খবর ও আপডেট পাচ্ছেন এবং ডোনেশন লিঙ্কের মাধ্যমে অনলাইনে দান করার সুবিধাও রয়েছে।