ডিএ-তে বড় লাফ! ত্রিপুরায় সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বেড়ে হল ৩৬ শতাংশ! পুজোর আগেই লক্ষাধিক কর্মী ও পেনশনভোগীর মুখে হাসি!

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মামলার রায়দান এখনও বাকি। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কর্মচারী সেই রায়ের দিকেই তাকিয়ে আছেন। এমন আবহে পুজোর ঠিক আগে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিরাট সুখবর ঘোষণা করল ত্রিপুরার মানিক সাহার সরকার। একলাফে ৩ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা সম্প্রতি শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে এই সুখবরটি দেন। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমার কার্যকালের ২৯ মাসে আমি সরকারি কর্মচারীদের ২৯ শতাংশ ডিএ দিয়েছি। রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ডিএ-র মধ্যে যে ফারাক রয়েছে, তা আমরা কমিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি।”

১ অক্টোবর থেকে কার্যকর, কোষাগারে অতিরিক্ত চাপ
নতুন এই ৩ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের প্রায় ১,০০,০০০ কর্মচারী এবং ৮৪,০০০ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন।

ডিএ বৃদ্ধির বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা আরও জানান, “আমাদের সরকার জনগণের সরকার। ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর, আমরা বেতন এবং পেনশন পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছি এবং ১ অক্টোবর, ২০১৮ থেকে সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়ন করা হয়েছে।”

তিনি স্বীকার করেন, ডিএ এবং ডিআর বৃদ্ধির ফলে রাজ্যের সরকারি কোষাগারে ২৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত বোঝা পড়বে। তবে কর্মীদের স্বার্থে এই চাপ নেওয়া হচ্ছে।

ডিএ এখন ৩৬%, কেন্দ্রের সঙ্গে ফারাক ১৯%
উল্লেখ্য, ডিএ বৃদ্ধির আগে ত্রিপুরার রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ৩৩ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছিলেন। এবার ৩% বাড়ায় তা পৌঁছে গেল ৩৬ শতাংশে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে ৫৫ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন। সামনেই দীপাবলির আগে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা আরও ৩-৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৮-৫৯ শতাংশে পৌঁছতে পারে। এই বৃদ্ধির পর ত্রিপুরা এবং কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের মধ্যে ডিএ-র পার্থক্য ১৯ শতাংশে এসে দাঁড়াল।

পশ্চিমবঙ্গে ডিএ নিয়ে যেখানে আইনি লড়াই চলছে, সেখানে প্রতিবেশী রাজ্যে এক মাসের মধ্যেই প্রায় ২ লক্ষ কর্মী ও পেনশনভোগীর মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।