‘হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ!’-মনোনয়ন জমার দিনই নন্দীগ্রামবাসীকে বার্তা শুভেন্দুর

নন্দীগ্রাম বিধানসভার উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে হলদিয়ায় এক বিশাল ‘সংকল্প সভা’ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মঞ্চ থেকেই নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষ, দলীয় কর্মী এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ও মেগা প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করেন তিনি।

সংখ্যালঘুদের পরীক্ষার বার্তা:

এদিনের সভা থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের উদ্দেশ্যে এক বিশেষ আবেদন জানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আমি জানি আপনারা আমাকে বা বিজেপিকে ভোট দেন না। তবে আপনাদের সামনে একটি বড় সুযোগ এসেছে। আপনারা সরকারের সঙ্গে থাকবেন, নাকি থাকবেন না—তা ঠিক করার সময় এসেছে। যদি সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চান, তবে ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে আপনাদের পরীক্ষা। আপনারা সেই পরীক্ষায় পাস করবেন নাকি ফেল করবেন, তা আপনাদের ব্যাপার। তবে বাকিটা আমরা জিতছি এবং জিতব।”

প্রচার ছাড়াই জয়ের আত্মবিশ্বাস:

নন্দীগ্রাম আসনে প্রার্থীর জয় নিয়ে যে তিনি শতভাগ আশাবাদী, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি বলেন, “আশা করি নন্দীগ্রামে নির্বাচন প্রচারে আমাকে আর আসতে হবে না। শুধু ভোটের দিন ভোট দেওয়ার জন্যই একবারে আসব।”

নন্দীগ্রামবাসীদের জন্য মেগা প্রতিশ্রুতি:

নন্দীগ্রামের জনগণের উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে যে যে ওয়াদা আমি করেছি, তার প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে পালন করার দায়িত্ব আমার। নন্দীগ্রামের জেলে যাওয়া, মিথ্যা মামলায় ফাঁসা প্রতিটা নেতা-কর্মীকে সরকারি ও দলগতভাবে পূর্ণ মর্যাদা দেওয়া হবে। কর্মীদের সব মিথ্যা মামলা তুলে নেওয়ার দায়িত্ব আমি নিজে নিচ্ছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “নন্দীগ্রামের প্রতিটা পরিবারের হাতে কাজ, পেটে ভাত এবং মাথায় ছাদ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার আমি পূর্ণ করব। ইতিমধ্যেই এলাকার ৬৭ হাজার মা-বোনকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা পাঠানো হয়েছে। ৮ হাজার অর্ধসমাপ্ত বাড়ির জন্য দ্বিতীয় কিস্তির টাকা এবং ১৩ হাজার ৭০০টি নতুন বাড়ির জন্য টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপনারা সম্পূর্ণ নিশ্চিন্তে থাকুন।”

মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনে মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা বার্তা উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পারদ যে আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলা বাহুল্য।