UPI লেনদেনে কি লুকিয়ে আসছে বড় ধাক্কা? মোদি সরকারকে তুলোধনা রাহুল গাঁধীর!

কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশিকা ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। পিআই (PI) মারফত ২০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেনকে মাশুলহীন রাখার কথা বলা হলেও, নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি লেনদেনের ভবিষ্যৎ কী—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। আর এই আবহেই নরেন্দ্র মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গাঁধী। তিনি সরাসরি মোদিকে ‘কম্প্রোমাইজ়ড’ বলে আক্রমণ করে দাবি করেছেন যে, সম্পূর্ণ চুপিসাড়ে ইউপিআই (UPI) লেনদেনের উপর মাশুল চাপানোর রাস্তা পাকা করে দিল কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের সাম্প্রতিক বিবৃতির পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় গর্জে ওঠেন রাহুল গাঁধী। তিনি নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘চুপিসাড়ে ইউপিআই লেনদেনের উপর মাশুল বসানোর দরজা খুলে দিল মোদি সরকার। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০০০ টাকার বেশি লেনদেনে এমডিআর (MDR) ধার্য করা যেতে পারে। যদিও সংখ্যার বিচারে এগুলি মোট লেনদেনের মাত্র ৫ শতাংশ, কিন্তু ইউপিআই-এর মাধ্যমে হওয়া মোট অর্থমূল্যের প্রায় ৬৫ শতাংশই আসে এই বড় লেনদেনগুলি থেকে।’
সরকার সাধারণ গ্রাহকদের স্বস্তি দেওয়ার দাবি করলেও, এর পেছনের জটিল সমীকরণ তুলে ধরে রাহুল বলেন, ‘সরকার হয়তো বলছে যে সরাসরি গ্রাহকদের থেকে কোনও মাশুল আদায় করা হবে না। কিন্তু যে মাশুল দোকানদার বা মার্চেন্টদের উপর চাপানো হবে, তার আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত কাদের কাঁধে এসে পড়বে? এই অতিরিক্ত খরচ ঘুরপথে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেট থেকেই কাটা হবে।’
কেন্দ্রের এই নীতি পরিবর্তনের নেপথ্যে মার্কিন প্রভাব রয়েছে বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁর দাবি, আমেরিকার পেমেন্ট কোম্পানিগুলি প্রথম থেকেই ভারতের জিরো-এমডিআর (Zero-MDR) নীতির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। আর সেই পথ ধরেই এখন নীতি পরিবর্তনের সুযোগ করে দিল বর্তমান সরকার। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে ঠিক যেমনটা ঘটেছিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবারও বিদেশি শক্তির চাপের কাছে মাথা নত করছেন বলে তোপ দাগেন রাহুল।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রের তরফে ব্যাঙ্ক এবং লেনদেন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ২০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেন এবং রুপে (RuPay) ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্টে যেন কোনও মাশুল আদায় করা না হয়। কিন্তু ২০০০ টাকার বেশি অংকের লেনদেনে কি পাকাপাকিভাবে মাশুল বসবে? এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক বা সরকারের তরফ থেকে নির্দিষ্ট করে এখনও কিছু খোলসা করা হয়নি। দীর্ঘ দিন ধরে দেশের সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইউপিআই লেনদেন করে এলেও, হঠাৎ কেন এই নীতিগত পরিবর্তন আনতে চাইছে সরকার, তা নিয়ে এখন থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক।