ডিজিটাল অ্যারেস্টে খোয়া গেল ২৩ কোটি টাকা! প্রতারিত হয়েও কেন কিছু করতে পারেননি প্রাক্তন ব্যাঙ্ক কর্মী?

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা খোয়ালেন এক প্রাক্তন ব্যাঙ্ক কর্মী। প্রতারকরা তাঁকে মানসিকভাবে বন্দি করে এক মাসে প্রায় ২৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

ঘটনার শিকার নরেশ মালহোত্রা নামে ওই ব্যক্তি। গত ৪ আগস্ট তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা এক মহিলা নিজেকে একটি টেলিকম সংস্থার কর্মী পরিচয় দিয়ে বলেন যে, মালহোত্রার মোবাইল নম্বরটি কিছু বেআইনি কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এরপর একে একে মুম্বাই পুলিশের ভুয়ো আধিকারিক, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এবং সিবিআইয়ের পরিচয়ে প্রতারকরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে।

৪ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা এক মাস ধরে প্রতারকরা মালহোত্রাকে মানসিক চাপে রেখেছিল। ভিডিও এবং ফোন কলের মাধ্যমে তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হয়। তাঁকে বাড়ি থেকে বেরোতে কিংবা অন্য কাউকে কিছু জানাতে নিষেধ করা হয়। এর ফলে প্রতারিত হচ্ছেন বুঝতে পেরেও ভয়ে তিনি কাউকে কিছু বলতে পারেননি।

আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে প্রতারকরা তাঁকে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফার করতে বাধ্য করে। কোটাক মাহিন্দ্রা, এইচডিএফসি এবং কানাড়া ব্যাঙ্ক-এর মতো একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকা বিভিন্ন ভুয়ো অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত যখন প্রতারকরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে, তখন মালহোত্রার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট একেবারে খালি হয়ে যায়।

প্রতারকদের চাপ থেকে মুক্ত হওয়ার পর মালহোত্রা সাহস সঞ্চয় করে ন্যাশনাল সাইবারক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ জানান। এরপর দিল্লি পুলিশের ইন্টেলিজেন্স ফিউশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনস ইউনিট এই মামলার তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, টাকা একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। তবে দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টগুলো থেকে প্রায় ১২ কোটি ১১ লক্ষ টাকা ফ্রিজ করতে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশের অনুমান, এই প্রতারণার পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্র রয়েছে, যারা বিভিন্ন ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহার করে টাকার হদিস গোপন করার চেষ্টা করেছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল যে ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে প্রতারকরা কীভাবে সাধারণ মানুষকে মানসিকভাবে বন্দি করে তাদের সর্বস্ব লুট করছে।