পৃথিবীর বাইরে মহাকাশেই যুদ্ধের মহড়া! স্যাটেলাইট ধ্বংসের ফাঁদ পাততেই মহাশূন্যে স্যাটেলাইটগুলোর মুখোমুখি লড়াই

মহাকাশযানের কৌশলগত সক্ষমতা এবং যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের টিকে থাকার ক্ষমতা যাচাই করতে এই প্রথমবার মহাকাশভিত্তিক কৌশলগত মহড়া পরিচালনা করল মার্কিন সামরিক বাহিনী। ‘ইউএস স্পেস কমান্ড’-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই উদ্বোধনী ‘লাইভ-ফ্লাই এক্সারসাইজ সিমুলেটেড’ বা কৃত্রিম সংঘাতের পরিবেশে সামরিক স্যাটেলাইট এবং মহাকাশযানগুলোর সুনির্দিষ্ট গতিশীলতা ও আক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষমতা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে।

মহাকাশে বিভিন্ন স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানকে পরস্পরের সাপেক্ষে আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার কৌশলে চালনা করার এই ঘটনাকে ‘অরবিটাল ডগফাইটিং’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইউএস স্পেস ফোর্সের ভাইস চিফ অফ স্পেস অপারেশনস জেনারেল মাইকেল এ. গুটলেইন। বিভিন্ন ফাইটার জেটের মধ্যে চলা ‘ক্লোজ এয়ার কমব্যাট’ বা নিকট দূরত্বে আকাশযুদ্ধের সঙ্গেই এই নতুন মহাকাশ কৌশলের তুলনা করেছেন তিনি। মূলত চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলোর ক্রমবর্ধমান মহাকাশ সক্ষমতা এবং অন্যান্য মহাকাশযান নজরদারির আওতায় আনার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই মেগা মহড়া সম্পন্ন করেছে ওয়াশিংটন।

মহড়ার কৌশলগত গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে ইউএস স্পেস কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল স্টিফেন হোয়াইট জানিয়েছেন, একটি স্থির ও অনুমান করা যায় এমন কক্ষপথ থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করলে মহাকাশ সম্পদগুলো সহজেই শত্রুর মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তাই মহাকাশ ক্ষেত্রে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে এবং কৌশলগত সুবিধা পেতে হলে সক্ষমতায় উচ্চতর গতিশীলতা ও টিকে থাকার ক্ষমতা থাকা জরুরি। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অংশগ্রহণে ‘অ্যাপোলো ম্যানুভার্স ২০২৬’ নামের এই গুরুত্বপূর্ণ মহড়া সম্পন্ন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বর্তমানে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ অত্যন্ত জনাকীর্ণ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে ওঠায়, সামরিক স্যাটেলাইট ব্যবহার করে জিপিএস বা যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়ার আশঙ্কা করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।