বাংলা ভাষায় কথা বলায় ঝাড়খণ্ডে পরিযায়ী শ্রমিককে ছুরি মেরে খুনের চেষ্টা, তুমুল চাঞ্চল্য!

ঝাড়খণ্ডের টাটানগর স্টেশনে বাংলা ভাষায় কথা বলার ‘অপরাধে’ এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিককে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্ত যুবকের নাম তপছেল জমাদার (২৭), যিনি উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির বাসিন্দা। এই ঘটনায় তার পরিবার বিচার চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?
তপছেল জমাদার ওড়িশার একটি নির্মাণ কোম্পানিতে কাজ করেন। রবিবার তিনি গ্রামের আরও ১৮-২০ জন সহকর্মীর সঙ্গে ট্রেনে করে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। ঝাড়খণ্ডের টাটানগর স্টেশনে নামার পর তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলছিলেন। সেই সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে ঘিরে ধরে ‘বাংলাদেশি’ বলে কটাক্ষ করতে শুরু করে। তপছেল এর প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে পরিণত হয়।

অভিযোগ, সেই সুযোগে হামলাকারীরা তপছেলকে ছুরি দিয়ে গলায় ও পিঠে আঘাত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি স্টেশনেই লুটিয়ে পড়েন। তার সহকর্মীরা প্রথমে ভয়ে পালিয়ে গেলেও পরে তাকে উদ্ধার করে টাটানগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কলকাতায় আনা হয়েছে এবং একটি সরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

পরিবারের আকুল আবেদন
তপছেলের স্ত্রী মারুফা বিবি বলেন, “আমরা তো বাঙালি! বাংলা ভাষায় কথা বলা ছাড়া আমরা অন্য কোনো ভাষায় কথা বলতে পারব না। বাঙালি হওয়া কি অপরাধ? আমার স্বামী কাজ না করলে আমাদের খাওয়া জুটবে না। ওর যদি কিছু হয়ে যেত, তাহলে আমাদের কে দেখত? আমি এর বিচার চাই এবং মুখ্যমন্ত্রীকে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করছি।”

তার আত্মীয় নুসরত জমাদার জানান, এই ধরনের ঘটনা বাড়তে থাকলে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের রুটি-রুজির উপর প্রভাব পড়বে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই ঘটনার বিহিত করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। বসিরহাট পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং প্রয়োজনে ঝাড়খণ্ড পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।