পার্টি অফিসে পেট্রোল বোমা থেকে যাদবপুরে মুখোমুখি মিছিল! রাজ্যে হঠাৎ কেন এতটা উত্তপ্ত রাজনীতির ময়দান?

পঞ্চায়েত ও প্রশাসনিক স্তরে সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। একদিকে উত্তরবঙ্গে রাজনৈতিক কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও বেআইনি কর্মকাণ্ডে শাসক দলের নেতার গ্রেফতারি, অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে মিছিল ও পাল্টা মিছিলে চরম উত্তেজনার পারদ চড়ছে।

১. জলপাইগুড়িতে সিপিএম পার্টি অফিসে অগ্নিসংযোগ, কাঠগড়ায় বিজেপি

উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে সিপিএম (CPI-M)-এর জেলা পার্টি অফিসে পেট্রোল ভর্তি বোতল ছুড়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। কার্যালয়ের ভিতরে অবস্থানরত কর্মীদের লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায় এবং বাইরে থেকে গেট বন্ধ করার চেষ্টা করে বলে দাবি সিপিএম নেতৃত্বের।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। যদিও এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ প্রতিক্রিয়া দিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, “আইন-শৃঙ্খলা কেউ নিজের হাতে তুলে নিলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনার পেছনে কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

২. গোলপার্ক থেকে যাদবপুর রণক্ষেত্র হওয়ার আশঙ্কা! মুখোমুখি শাসক ও ছাত্র সংগঠন

দক্ষিণ কলকাতায় রাজনৈতিক পারদ চড়াতে তৈরি নতুন মাত্রা। গোলপার্ক থেকে যাদবপুর ৮বি (8B) বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’-র ডাক দেওয়া হয়েছে, যাতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মূল রাজনৈতিক নেতৃত্বের।

অন্যদিকে, এই পদযাত্রার আবহেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরে তীব্র প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI)। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অরবিন্দ ভবনের সামনে জমায়েত ডেকেছে এফইটিএসইউ (FETSU)। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া হামলাকাণ্ডে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার, ক্যাম্পাসে পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং দ্রুত ছাত্র সংসদ (Student Union) নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছেন বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীরা। মুখোমুখি জোড়া কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোলপার্ক ও যাদবপুর চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

৩. শিলিগুড়িতে বেআইনি মদ তৈরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার তৃণমূল নেত্রীর স্বামী

রাজ্যে বেআইনি কারবারের বিরুদ্ধে আবগারি দপ্তর (Excise Department) ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ধরা পড়ল বড় সাফল্য। শিলিগুড়ির বিধাননগর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একটি অবৈধ মদ তৈরির কারখানায় হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল বিদেশি মদ, ভুয়া হোলোগ্রাম এবং মদ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা।

ঘটনায় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা প্রভাবশালী স্থানীয় তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ সরকার ওরফে বাসুকে। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২১ সালে একই ধরনের বেআইনি মদ সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এই তৃণমূল নেতা। নতুন করে তাঁর গ্রেফতারিতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।