টাকার কাছে কি ম্লান শহিদের রক্ত? ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে ফুঁসছে দেশ, প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এশিয়া কাপের ক্রিকেট ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পাঁচ মাস আগে কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ জঙ্গি হামলায় নিহত সেনাদের পরিবার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই ম্যাচকে ‘জাতীয় ভাবাবেগের অবমাননা’ হিসেবে দেখছে। লখনউ, মুম্বই, দিল্লি, চণ্ডীগড় এবং জম্মুতে প্রতিবাদে নেমেছেন বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা।

শহিদ পরিবারের আবেগ:
পহেলগাঁও হামলায় নিহত সন্তোষ জাগডলের মেয়ে আসাবরী জাগডলে এই ম্যাচ হওয়াকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “২৬ জনের প্রাণের বিনিময়ে যদি বিসিসিআই এই ম্যাচ আয়োজন করে, তবে তা শহীদ পরিবারের আবেগের প্রতি চরম অবমাননা।”

রাজনৈতিক দলগুলোর বিক্ষোভ:

আম আদমি পার্টি (AAP): দলের আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল ‘এক্স’-এ (পূর্বতন টুইটার) লেখেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ খেলা দেশদ্রোহিতার শামিল। এ নিয়ে প্রতিটি ভারতীয়ই ক্ষুব্ধ।” দলের নেতা মনীশ সিসোদিয়া অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গ তুলে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে): নবি মুম্বই ও জম্মুতে শিবসেনা কর্মীরা টেলিভিশন সেট ভেঙে প্রতিবাদ জানান। দলের প্রধান উদ্ধব ঠাকরে বলেন, “দুবাইয়ে ভারত-পাক ম্যাচ জাতীয় ভাবাবেগের অপমান।”

এআইএমআইএম: হায়দরাবাদে এক সভায় এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি প্রশ্ন তোলেন, “একটা ম্যাচের জন্য ২-৩ হাজার কোটি টাকার দাম বেশি, না ২৬ জন শহিদের প্রাণের দাম বেশি?” তিনি বিজেপিকে ‘দ্বিচারিতা’র জন্য অভিযুক্ত করেন।

যদিও সরকারি নীতি অনুযায়ী, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলা বন্ধ, তবে বহুপাক্ষিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করা চলবে। এই নীতির সুযোগ নিয়েই এখন বিরোধী দলগুলো সরকারের তীব্র সমালোচনা করছে এবং প্রশ্ন তুলছে, টাকার কাছে দেশপ্রেম কি হেরে গেল?