সিলিং থেকে বেরিয়ে এল প্রকাণ্ড কোবরা! নয়ডার বাড়িতে আতঙ্কে ৩৬ ঘণ্টা আটকে গোটা পরিবার

নয়ডার এক বাড়িতে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বাড়ির রান্নাঘরের সিলিং লাইটের ভেতর থেকে এক প্রকাণ্ড কোবরা সাপ বেরিয়ে আসার ঘটনায় পুরো পরিবারটি চরম আতঙ্কে ছিল। সেক্টর ৫১-এর এই ঘটনায় প্রথমে পরিবারের সদস্যরা এটিকে একটি ইলেক্ট্রিক তার মনে করলেও, নড়াচড়া করতে দেখে ভয় পেয়ে যান। এরপর প্রায় ৩৬ ঘণ্টা ধরে ভয়ে নিজেদের একটি ঘরে আটকে রাখেন তারা, এমনকি রান্নাও বন্ধ ছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে বন দপ্তর এবং একজন পেশাদার সাপ ধরার লোক ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কয়েক ঘণ্টা ধরে চেষ্টার পর বিশেষ এক ধরনের গুঁড়ো ছিটিয়ে সাপটিকে সিলিং থেকে বাইরে বের করে আনা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই কোবরা সাপের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বন দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাপটিকে নিরাপদে ওখলা বার্ড স্যাংচুয়ারিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সাপের কামড়ে দুই শিশুর মৃত্যু
অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশের বালরামপুর জেলা থেকে আরও একটি মর্মান্তিক খবর এসেছে। বাড়ির ছাদে ঘুমিয়ে থাকা ১২ বছরের এক কিশোরী এবং তার ৮ বছরের ভাই সাপের কামড়ে মারা গেছে। সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট হেমন্ত গুপ্তা জানান, মৃত দুই ভাই-বোনের নাম শিভানি এবং শুভম। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাদের মৃত্যু হয়।
সাপের কামড়ে মৃত্যু থেকে ফিরে আসা
সাপে কাটা রোগীর জন্য সঠিক সময়ে চিকিৎসা কতটা জরুরি, তার প্রমাণ পাওয়া গেল নদীয়ার ৯ বছরের এক নাবালকের ঘটনায়। রাতে বাড়ির বাইরে গেলে একটি সাপের কামড়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পেটে ব্যথা, চোখের পাতা ঝুলে পড়া, এবং শরীর দুর্বল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তাকে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।
কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানান, নাবালকের শরীরে দুটি সাপের কামড়ের চিহ্ন রয়েছে। এটি একটি নিউরোটক্সিক সাপের কামড়, যা নার্ভ এবং মাংসপেশিকে আক্রান্ত করে। সঠিক সময়ে ভেন্টিলেটর এবং অন্যান্য চিকিৎসা দিয়ে নাবালককে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলো একদিকে যেমন জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে, তেমনই মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।