জমি কিনে আর কোটিপতি হওয়া যাবে না? মহারাষ্ট্র সরকারের ব্লকচেইন মডেলে বদলে যাচ্ছে রিয়েল এস্টেট দুনিয়া!

মহারাষ্ট্র সরকার দেশের প্রথম ল্যান্ড টোকেনাইজেশন লেজিসলেটিভ এবং ব্লকচেইন-বেस्ड ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির মাধ্যমে রিয়েল এস্টেট ও সম্পত্তি বাজারে এক ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্প্রতি গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট ২০২৬-এর মঞ্চে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ঘোষণাটি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস। সরকারের এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো জমি ও সম্পত্তির লেনদেনকে আরও বেশি স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং আধুনিক প্রযুক্তির আয়ত্তে নিয়ে আসা। প্রস্তাবিত ‘মহারাষ্ট্র ডিজিটাইজেশন অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অফ ল্যান্ড টোকেনাইজেশন অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে মূলত ল্যান্ড টোকেনাইজেশন প্রক্রিয়াকে একটি শক্তপোক্ত আইনি ও প্রযুক্তিগত ভিত্তি প্রদান করার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে সম্পত্তি কেনাবেচা এবং তার মালিকানা হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়াটি ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যার ফলে জালিয়াতি বা দুর্নীতির সুযোগ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী আইনি জটিলতা এবং কাগজের নথিপত্র নির্ভর ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে জমি ডিজিটালের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা এই নতুন আইনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টের মতো আন্তর্জাতিক ও মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা দেশের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইসহ সমগ্র মহারাষ্ট্র জুড়ে রিয়েল এস্টেট খাতে এই ফ্রেমওয়ার্ক এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে এই আইন কার্যকর হলে সাধারণ মানুষ কীভাবে উপকৃত হবেন এবং এর ফলে সম্পত্তি বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, সেদিকেই এখন গোটা দেশের নজর রয়েছে।