দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে সহপাঠীকে খুন! তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য, বিহারে পালানোর ছক কষেছিল অভিযুক্ত

দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে শুক্রবার ঘটে যাওয়া হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশি তদন্তে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্কুলের ব্যাগে ছুরি নিয়ে ঘোরা এক ছাত্র প্রকাশ্য দিবালোকে, ভিড়ে ঠাসা মেট্রো স্টেশনে তার সহপাঠীকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে খুন করে। সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে এমন ভয়ঙ্কর অপরাধ করতে তার হাত কাঁপেনি। এই ঘটনার পর শুধু মেট্রোযাত্রীরাই নয়, উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সকল অভিভাবক।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই অপরাধের পিছনে রয়েছে এক ‘বিহার-কানেকশন’। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রানা সিং পলাতক ছিল। কিন্তু জানা গেছে, তার পরিবার তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার বদলে বিহারের বেগুসরাইয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দক্ষিণেশ্বর থানার পুলিশ গতকাল রাতে হাওড়া স্টেশন থেকে রানা সিংকে তার মা-বাবা এবং বোনের সঙ্গে গ্রেফতার করে।

ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি সাউথ অনুপম সিং-সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা রাতে দক্ষিণেশ্বর থানায় রানাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে জেরা করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, একটি কিশোরীকে কটূক্তি করা নিয়ে দুই বন্ধু মনোজিৎ যাদব ও রানা সিংয়ের মধ্যে বিবাদের সূত্রপাত। গত ১০ তারিখেও তাদের মধ্যে এই নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল। এরপর শুক্রবার শ্যামবাজার মেট্রো স্টেশনে তাদের মধ্যে আবার বচসা হয়। এরপর দক্ষিণেশ্বর স্টেশনে নেমে রানা মনোজিৎকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে।

এই ঘটনার পর থেকে বরানগরের আলমবাজারে রানার বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, মেট্রো স্টেশনে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনায় নিত্যযাত্রীরা আতঙ্কিত। অনেক স্কুল পড়ুয়া একা মেট্রোতে যাতায়াত করে। তাদের পরিবার এখন সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। যদিও অভিযুক্ত ধরা পড়েছে, তবুও মেট্রো স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, ঘটনার পরেও বিভিন্ন স্টেশনে আরপিএফ বা কলকাতা পুলিশের কর্মীদের তেমন সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়নি।