সোনালি বিবিকে পুশব্যাক মামলায় চরম মোড় ,হাইকোর্টের ভর্ৎসনার মুখে মামলাকারীরা, বিপাকে কেন্দ্রও

অন্তঃসত্ত্বা সোনালি বিবিকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করার ঘটনায় এবার কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়েছেন মামলাকারীরা। একই সঙ্গে এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকারও। কেন মাত্র দু’দিনের মধ্যে ওই পরিবারকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হলো, সেই বিষয়ে আদালত কেন্দ্রের কাছে জবাবদিহি চেয়েছে।

মামলা প্রত্যাহার করার নির্দেশ?

এই মামলার শুনানিতে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাকারীদের তথ্য গোপনের বিষয়টিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে। বীরভূমের পাইকর গ্রামের ছয় বাসিন্দা সোনালি বিবিদের ভারতে ফেরানোর দাবিতে এই মামলা করেছিলেন। কিন্তু আদালতে কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী জানান, একই বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টেও দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যা কলকাতা হাইকোর্টে জানানো হয়নি।

এই তথ্য গোপনের জন্য মামলাটি খারিজ করার আবেদন জানান কেন্দ্রের আইনজীবী। জবাবে আদালত মামলাকারীদের কাছে জানতে চায়, তারা কলকাতা হাইকোর্ট থেকে মামলা প্রত্যাহার করে দিল্লি হাইকোর্টে যাবেন কি না। আগামী বৃহস্পতিবার মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে তাঁদের জানাতে হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আদালত শুধুমাত্র মামলাকারীদেরই নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী জানতে চান, সোনালি বিবিদের বাংলাদেশে পাঠানোর আগে কি কোনো অনুসন্ধান করা হয়েছিল? আটক করার মাত্র দু’দিনের মধ্যে কিসের ভিত্তিতে তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হলো?

আদালতের মতে, নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ নথি না থাকা কাউকে আটক করার পর সেই রাজ্যকে অন্তত এক মাস সময় দেওয়া হয় বিষয়টি যাচাই করার জন্য। আদালত আরও জানতে চায়, এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও দিল্লি পুলিশের কাছে কোনো অনুসন্ধানের রিপোর্ট আছে কি না। আদালত জানায়, আগামী শুনানিতে মামলাকারীরা যদি এই মামলা প্রত্যাহার না করেন, তবে কেন্দ্রকে আদালতে এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে হতে পারে।