পুরুষের টেস্টোস্টেরন বাড়াতে সহায়ক এই ১২ খাবার, এড়িয়ে না গিয়ে অবশ্যই জেনেনিন পুরুষরা

বয়স ত্রিশ পেরোলেই অনেক পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করে। এর ফলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, কামবাসনা কমে যাওয়া, লিঙ্গোত্থানে সমস্যা, খারাপ মেজাজ এবং মনোযোগের অভাবের মতো নানান শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই! নিয়মিত কিছু খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
এই প্রতিবেদনে এমন বারোটি খাবারের নাম উল্লেখ করা হলো যা পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন নিঃসরণ বৃদ্ধিতে সহায়ক:
১. মধু: প্রাকৃতিক নিরাময়কারী উপাদান বোরোনে সমৃদ্ধ মধু টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি নাইট্রিক অক্সাইডের মাত্রাও ঠিক রাখে, যা ধমনী প্রসারিত করে লিঙ্গোত্থানে শক্তি যোগায়।
২. বাঁধাকপি: ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে ভরপুর বাঁধাকপিতে রয়েছে ইনডোল থ্রি-কার্বিনল। এই উপাদানটি শরীরে স্ত্রী হরমোন ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ কমিয়ে টেস্টোস্টেরনকে আরও কার্যকর করে তোলে।
৩. রসুন: রসুনের আলিসিন নামক যৌগ মানসিক চাপের হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এর ফলে টেস্টোস্টেরন ভালোভাবে কাজ করতে পারে। কাঁচা রসুন খাওয়া এক্ষেত্রে বেশি উপকারী।
৪. ডিম: স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ডি, কোলেস্টেরল এবং প্রোটিনের উৎস ডিম টেস্টোস্টেরন হরমোন তৈরির জন্য অপরিহার্য উপাদান সরবরাহ করে।
৫. কলা: কলায় বিদ্যমান ব্রোমেলেইন এনজাইম টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি দীর্ঘক্ষণ শরীরে শক্তিও যোগায়।
৬. কাঠবাদাম: নারী ও পুরুষ উভয়ের যৌন আকাঙ্ক্ষার জন্য প্রতিদিন এক মুঠো কাঠবাদাম যথেষ্ট। এতে থাকা জিঙ্ক টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি করে এবং কামবাসনা বাড়াতে সাহায্য করে।
৭. ঝিনুক: টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে জিঙ্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। ঝিনুকে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে যা টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতে সহায়ক। ঝিনুক অপছন্দ হলে সুইস বা রিকোত্তা চিজও জিঙ্কের ভালো উৎস হতে পারে।
৮. টক ফল: টক জাতীয় ফল ‘স্ট্রেস হরমোন’ কমানোর পাশাপাশি ভিটামিন এ-এর ভালো উৎস, যা টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে প্রয়োজন। এছাড়াও এটি শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রাও কমিয়ে পুরুষ হরমোনকে ভালোভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
৯. পালংশাক: এটি প্রমাণিত যে পালংশাক শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমাতে পারে। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি এবং ই রয়েছে, যা টেস্টোস্টেরন তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
১০. আঙুর: হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন এক থোকা লাল আঙুর খেলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং শুক্রাণুর গুণগত মান ও সক্রিয়তা উন্নত হয়।
১১. ডালিম: ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ইম্পোটেন্স রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, যৌন দুর্বলতায় ভোগা পুরুষদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ যারা প্রতিদিন ডালিমের রস পান করেন, তাদের অবস্থার উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।
১২. মাংস: সাধারণভাবে মনে করা হয় যারা মাংস খান না তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম থাকে। তবে অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান থাকা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, ভেড়ার মাংসের তৈরি খাবারে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে।
সুতরাং, খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলো নিয়মিত যোগ করে পুরুষরা তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে এবং এর অভাবজনিত সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পেতে পারেন।