“২০ মিটার রেলপথ ধসে সাফ!”-ফরাক্কার পরিস্থিতিতে বাতিল হল কোন কোন ট্রেন?

ভারী বৃষ্টির জেরে ব্যাপক ধস নামায় দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে প্রায় ২০ মিটার এলাকার রেলপথের নীচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে ট্রেন চলাচল। পরিস্থিতি সামাল দিতে পূর্ব রেলের তরফে একাধিক ট্রেন বাতিল করার পাশাপাশি বহু ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতির জন্য দেড় শতাধিক কর্মী ও রেলের পদস্থ ইঞ্জিনিয়াররা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাত আড়াইটে নাগাদ। রেললাইনে রুটিন টহলদারির সময় কর্মীরা দেখতে পান যে, নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে ট্র্যাকের নীচ থেকে কয়েক ফুট মাটি বসে গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি স্টেশন ম্যানেজারকে জানিয়ে আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলি আটকে পড়ে। যদিও বৃহস্পতিবার দুপুরের পর ডাউন লাইনে সীমিত পরিসরে কিছু ট্রেন চালানো হয়েছিল, তবে যাত্রী নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শুক্রবার অধিকাংশ প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ রুটেই ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে বৃহস্পতিবার রাতে, যখন পাশের একটি পুকুরের পাড়ে নতুন করে ধস নামায় একটি ওভারহেড বৈদ্যুতিক খুঁটি বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়ে। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, আপ লাইনে সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনতে আরও এক-দুই দিন সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্ট অংশটি যে সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত, তার উপযুক্ত শংসাপত্র না পাওয়া পর্যন্ত ট্রেন চালানোর ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না।
কোন কোন ট্রেন বাতিল ও ঘুরপথে চলছে? পূর্ব রেলের তথ্য অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ের জেরে সরাইঘাট এক্সপ্রেস, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, হাটে বাজারে এক্সপ্রেস, গৌড় এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস, হামসফর এক্সপ্রেস এবং বন্দে ভারত ও শতাব্দী এক্সপ্রেসের মতো একাধিক জনপ্রিয় ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার, কামরূপ এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র মেল, কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস সহ বেশ কয়েকটি ট্রেন ঘুরপথে গন্তব্যের দিকে রওনা করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি মেরামতের কাজ জোরকদমে চলছে। কাজ করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে ক্ষতির পরিমাণ একটু বেশি এবং ধস ছড়িয়ে পড়েছিল, তবে আপাতত তা রোধ করা সম্ভব হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী শনিবারের মধ্যেই উত্তরবঙ্গ রুটে ট্রেন চলাচল ফের স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে রেল। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে নিজে পুরো মেরামতি প্রক্রিয়ার উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন।
যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ সামনে দীর্ঘ সপ্তাহান্ত থাকায় অনেকেই উত্তরবঙ্গ ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ এই বিপর্যয় নেমে আসায় নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে পর্যটকরা মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। সরকারি বাসের টিকিট নিমেষেই শেষ হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ বেসরকারি বাসের শরণাপন্ন হয়েছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু বেসরকারি বাস সংস্থা শেষ মুহূর্তে টিকিটের চড়া দাম আদায় করছে। রেল পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ভোগ থেকে নিস্তার মিলছে না যাত্রীদের।