“জুয়ায় ২০ লক্ষ খুইয়েই খুনির বরাত!”-বিহারে গ্যাংস্টার কান্ডের নেপথ্যে কি কারণ, জানালো তৌসিফ

বিহারের পাটনার পারস হাসপাতালে আইসিইউতে ঢুকে কুখ্যাত দুষ্কৃতী চন্দন মিশ্রকে খুনের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এই ঘটনার তদন্ত করছে বিহার পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তকারীদের হাতে আটক হওয়া অন্যতম অভিযুক্ত তৌসিফ রাজা ওরফে বাদশার জবানবন্দিতে খুনের কারণ ও মূল পরিকল্পনাকারীর পরিচয় জানা গেছে।
তদন্তে জানা গেছে, এই খুনের মূল কারণ আর্থিক সংকট। জুয়া খেলে ২০ লক্ষ টাকা খুইয়ে বসেছিল তৌসিফ। এই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করতে না পেরেই সে চন্দন মিশ্রকে খুনের বরাত নেয়। বিহার পুলিশের এসটিএফ-এর দাবি, টানা জেরার মুখে তৌসিফ নিজেই এই কথা স্বীকার করেছে।
পরিকল্পনার নেপথ্যে কে?
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, খুনের মূল পরিকল্পনাকারী পুরুলিয়া জেলে বন্দি থাকা কুখ্যাত দুষ্কৃতী ‘শেরু’। সে চন্দনকে খুনের জন্য তার ভাই নিশু-কে বরাত দেয়। নিশু নিজেও তখন আর্থিক সংকটে ভুগছিল এবং নিজের হোটেলটিও বিক্রি করে দেওয়ার কথা ভাবছিল। এই পরিস্থিতিতে সে শেরুর সঙ্গে যোগাযোগ করে। চন্দনকে খুনের বরাত পেয়ে নিশু তার ভাই তৌসিফ এবং অন্য দুষ্কৃতীদের এই কাজের দায়িত্ব দেয়।
খুনের বিবরণ
১৭ই জুলাই, খুনের দিন সকালে পাটনার সামনপুরায় নিশুর বাড়িতে বসে মদ খায় তৌসিফ, নিশু, বলবন্ত, অভিষেক এবং মনু। এরপর তারা পারস হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে এই পাঁচজনকেই হাসপাতালের ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। তদন্তে তৌসিফ জানিয়েছে, তারা নিজেদের চন্দনের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে হাসপাতালের কর্মীদের জানায় যে, তারা তাদের ‘কাকা’ চন্দন মিশ্রকে দেখতে এসেছে। আইসিইউয়ের ২০৯ নম্বর কেবিনে ঢুকে তারা চন্দনকে লক্ষ্য করে একটানা গুলি চালায়। পুলিশের দাবি, মোট ২৮টি গুলি চালানো হয়েছিল। এখানেই শেষ নয়, গুলি চালানোর সময় তৌসিফ নাকি তার মোবাইলে খুনের ভিডিওটিও ধারণ করে।
মোবাইল ফোন থেকে সূত্র
খুনের পর তৌসিফ হাসপাতাল থেকে পালিয়ে তার বোনদের বাড়ি গয়ায় চলে যায়। সেখানে সে নিজের দুটি মোবাইল এবং নিশুর একটি মোবাইল রেখে আসে। পুলিশ তিনটি ফোনই বাজেয়াপ্ত করেছে এবং কল ডিটেলস রেকর্ড খতিয়ে দেখেছে। সেখান থেকে জানা গেছে, খুনের আগে ও পরে তৌসিফ ও নিশু কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এর ফলে তদন্তের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসছে। এই খুনের ঘটনায় জড়িত বলবন্ত এবং অভিষেক বিহার পুলিশের এনকাউন্টারে আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।