পার্ক সার্কাসে সাংবাদিকের উপর দুষ্কৃতী হামলা, ব্লেড দিয়ে শরীরের একাধিক জায়গায় কোপ! শহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও জনবহুল এলাকা পার্ক সার্কাস স্টেশনের সামনেই ঘটল এক রোমহর্ষক ঘটনা। মঙ্গলবার রাতে দুষ্কৃতীর হাতে আক্রান্ত হলেন বরিষ্ঠ সাংবাদিক কিশলয় মুখার্জী। আচমকা তাঁর উপর চড়াও হয়ে এক যুবক ধারালো ব্লেড দিয়ে তাঁর শরীরের একাধিক স্থানে কোপ মারে। গুরুতর আহত অবস্থায় কিশলয় মুখার্জীকে তড়িঘড়ি একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এবং সাংবাদিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

প্রকাশ্যে হামলা: আতঙ্কিত স্থানীয়রা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাংবাদিক কিশলয় প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবার রাতে পার্ক সার্কাস স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ছিলেন। আচমকাই এক যুবক তাঁর দিকে এগিয়ে এসে অশালীনভাবে কথা বলতে শুরু করে। কিশলয় মুখার্জী এর প্রতিবাদ করতেই দুষ্কৃতীটি আচমকা একটি ব্লেড বের করে তাঁর উপর হামলা চালায়। চোখের পলকেই তাঁর শরীরের একাধিক জায়গা রক্তাক্ত জখম হয়। পরে স্থানীয়রা এবং তাঁর সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, কিশলয়ের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও তাঁর হাতে ও ঘাড়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ব্লেডের কোপ অত্যন্ত মারাত্মক ছিল এবং সামান্য এদিক-ওদিক হলে বড় বিপদ ঘটে যেতে পারত।

তদন্ত শুরু, গ্রেফতারি অধরা
এই নৃশংস হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পার্ক সার্কাস থানা ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে এবং দুষ্কৃতীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে, এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত হামলা বলে মনে করা হচ্ছে না, তবে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দুষ্কৃতীর মানসিক অবস্থাও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগের ছায়া
কলকাতা প্রেস ক্লাব এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। তাঁরা অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এক বিবৃতিতে বলেন, “একজন সাংবাদিকের উপর এমন হামলা গণতন্ত্রে চরম লজ্জার বিষয়। আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

সাংবাদিক কিশলয়ের সহকর্মীরাও এই ঘটনায় আতঙ্কিত। তাঁরা বলছেন, “শহরের বুকে এমন নিরাপত্তাহীনতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাংবাদিকেরা নানা জায়গায় রিপোর্টিং করতে যান, কিন্তু যদি নিজের শহরেই নিরাপদ না হন, তবে সেটা ভয়ের বার্তা দেয়।”

এই ঘটনা ফের একবার কলকাতার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাংবাদিক— কেউই কি আর শহরের রাস্তায় নিরাপদ নন? প্রশাসনের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, দোষীদের দ্রুত ধরে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা এবং জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনা।