RG kar কান্ড! আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়কে চ্যালেঞ্জ, ‘বেকসুর খালাস দিতে হবে এই মামলায়’- দাবি সঞ্জয়ের

আরজি কর হাসপাতালে নার্স ধর্ষণ ও খুন মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দোষী সাব্যস্ত সঞ্জয় রায়। গত ১৭ই জুন দায়ের করা তাঁর এই আবেদন গ্রহণ করেছে উচ্চ আদালত। সঞ্জয় রায়ের দাবি, এই মামলায় তাকে বেকসুর খালাস দিতে হবে। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি আগামী সেপ্টেম্বর মাসে হতে পারে বলে জানা গেছে। এদিকে, নির্যাতিতার পরিবার এই মামলায় আদালতকে সব রকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে।
আবেদনে বেকসুর খালাসের দাবি:
উচ্চ আদালতে দায়ের করা আবেদনে সঞ্জয় রায়ের আইনজীবী দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলকে বেকসুর খালাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডে এখন পর্যন্ত একমাত্র সঞ্জয় রায়ই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। সিবিআই তাদের চার্জশিটে শুধুমাত্র সঞ্জয়কেই ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দোষী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এই কারণে সিবিআই তদন্তের প্রতি বরাবরই ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ করে এসেছেন নির্যাতিতার মা-বাবা। তাঁদের দাবি, নির্যাতিতার আসল খুনি এখনও আরজি করের চেস্ট মেডিসিন বিভাগেই লুকিয়ে আছে।
নিম্ন আদালতের রায়:
গত ২০ জানুয়ারি শিয়ালদা আদালতের বিচারক অনির্বাণ দাস আরজি কর মামলায় সঞ্জয় রায়কে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা শোনান। এই আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও দিতে হবে। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি আদালত ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৩ (ধর্ষণ), ৬৪ (ধর্ষণের সময় এমনভাবে আঘাত করা, যাতে মৃত্যু হয়), এবং ১০৩ (১) নং (খুন) ধারায় সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করেছিল।
বিচারক ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪ ধারার আওতায় সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ৬৬ ধারার আওতায় আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ১০৩ (১) ধারার আওতায় সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছিল যে, নির্যাতিতার পরিবারকে রাষ্ট্রকে ১৭ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যদিও এই মামলাকে ‘বিরলের থেকে বিরলতম’ নয় বলে বিচারক মন্তব্য করেছিলেন, সিবিআই আদালতে সঞ্জয়ের ফাঁসির জন্য জোর সওয়াল করেছিল।
হাইকোর্টে সঞ্জয় রায়ের এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।