গলায় আটকেছে মাছের কাঁটা? বিড়াল নয়, এই ৯ ঘরোয়া উপায়ই যথেষ্ট!

‘মাছে-ভাতে বাঙালি’—এই প্রবাদ বাক্যটি বাঙালির খাদ্য সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। মাছ ছাড়া বাঙালির আহার যেন অসম্পূর্ণ। তবে মাছ খাওয়ার সময় ছোট-বড় সকলেরই দুর্ঘটনাবশত গলায় কাঁটা আটকে যাওয়ার অভিজ্ঞতা কমবেশি সকলেরই হয়েছে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক কী করা উচিত, তা অনেকেরই অজানা।
গলার কাঁটা দূর করতে অদ্ভুত সব পন্থা অবলম্বনের কথা শোনা যায়, যেমন বিড়ালের পা ধরা বা ওঝা-কবিরাজের ঝাড়ফুঁক। তবে গলায় মাছের কাঁটা আটকে যাওয়া খুবই কষ্টকর এবং ভুল চিকিৎসার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই এমন ঘটনা ঘটলে, গলায় বিঁধে থাকা মাছের কাঁটা দূর করতে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে:
১. শুকনো সাদা ভাত:
গলায় কাঁটা বিঁধলে শুকনো সাদা ভাত চটকে ছোট ছোট দলা তৈরি করুন এবং তা গিলে খান। এরপর জল পান করুন। একবারে না হলে কয়েকবার এই পদ্ধতি অবলম্বন করুন। ভাত ও জল কাঁটাকে টেনে নিচে নামাতে সাহায্য করে। শুকনো মুড়ি বা গরম দুধে ভেজানো পাউরুটিও এক্ষেত্রে কিছুটা কাজে দিতে পারে।
২. পাকা কলা:
পাকা কলা এক কামড়ে একটু বেশি পরিমাণে নিয়ে অল্প চিবিয়ে গিলে নিন। পাকা কলার পিচ্ছিল ভাব গলায় আটকে থাকা কাঁটাকে সহজে সরিয়ে দিতে সাহায্য করে।
৩. লবণ ও লেবুর রস:
মাছের কাঁটা গলিয়ে দেওয়ার জন্য লবণ ও লেবুর মিশ্রণও বেশ কার্যকর। এক টুকরো লেবুতে হালকা লবণ মিশিয়ে সেটি চুষে খান। লেবুর অম্লতা ও লবণের লবণাক্ততা কাঁটাকে নরম করে গলা থেকে নামিয়ে আনতে পারে।
৪. ভিনেগার:
গলায় আটকে থাকা মাছের কাঁটা নামাতে ভিনেগার দারুণ কাজ করে। জলের সঙ্গে সামান্য ভিনেগার মিশিয়ে ধীরে ধীরে পান করুন। ভিনেগার পাতি লেবুর রসের মতোই কাঁটাকে নরম করতে সাহায্য করে।
৫. এডিবল অলিভ অয়েল:
গলায় কাঁটা বিঁধলে দেরি না করে এক চা চামচ এডিবল অলিভ অয়েল খেয়ে নিন। অলিভ অয়েল অন্যান্য তেলের তুলনায় বেশি পিচ্ছিল হওয়ায় কাঁটা সহজেই গলা থেকে পিছলে নেমে যেতে পারে।
৬. ঠান্ডা কোমল পানীয় ও লেবু:
কোনো ঠান্ডা কোমল পানীয়ের সঙ্গে লেবু মিশিয়ে অল্প অল্প করে চুমুক দিন। কোমল পানীয়ের সোডা ও লেবুর অম্লত্ব একসঙ্গে মিলে মাছের কাঁটা গলিয়ে দিতে সাহায্য করতে পারে।
৭. লবণ মেশানো গরম জল:
উপরের কোনো উপাদান হাতের কাছে না থাকলে, খানিকটা হালকা গরম জলে সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করার চেষ্টা করুন। গরম জল কাঁটাকে নরম করবে এবং লবণ পিচ্ছিলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
৮. কাশি:
কখনও কখনও জোরে জোরে কয়েকবার কাশির চেষ্টা করলে গলার পেছনের দেয়ালে আটকে থাকা কাঁটা কাশির দমকে সামনে চলে এসে বেরিয়ে যেতে পারে।
৯. চিকিৎসকের পরামর্শ:
উপরের কোনো পদ্ধতিতেই যদি গলার কাঁটা না নামে, তাহলে দেরি না করে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অথবা নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। স্পেশাল ফরেন বডি রিমুভারের সাহায্যে এই ধরনের আটকে থাকা কাঁটা বের করা সম্ভব।