১০ রাজ্যসভা আসন আর ২০২৭-এর মহাভোট! দিল্লিতে মোদী-যোগীর টানা এক ঘণ্টার গোপন বৈঠক নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা

২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন এবং আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতা একেবারে তুঙ্গে। এই আবহেই দিল্লির ৭ লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘ বৈঠকে মিলিত হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। টানা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শুরু করে একাধিক মেগা স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রাজ্যসভা ও বিধান পরিষদ নির্বাচন নিয়ে রণকৌশল: সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে প্রধানত উত্তরপ্রদেশের ১০টি রাজ্যসভা আসন এবং বিধান পরিষদ নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই আসনগুলিতে সর্বাধিক জয় নিশ্চিত করতে দলের অন্দরে কী ধরনের কৌশল নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী। পাশাপাশি, বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যের বর্তমান মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্রও প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন তিনি।

সংগঠন মজবুত করার ওপর জোর: ভোটের আগে দলের বুথস্তর থেকে শুরু করে শক্তি কেন্দ্র, মণ্ডল এবং জেলা স্তরের সাংগঠনিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছে বিজেপি নেতৃত্ব। সাম্প্রতিক সময়ে মীরাট সহ বিভিন্ন অঞ্চলে দলীয় প্রস্তুতি পর্যালোচনা করে যে রিপোর্ট তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সরকার ও সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করার নির্দেশও শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের পর জেপি নাড্ডার সঙ্গেও সাক্ষাৎ: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই মেগা বৈঠকের পর বিজেপির জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, এর একদিন আগেই গ্রেটার নয়ডায় আয়োজিত উত্তর প্রদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২৬-এ যোগ দিয়েছিলেন যোগী আদিত্যনাথ ও অমিত শাহ। সেখানে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সামনেই একাধিক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং নির্বাচন থাকায় দিল্লি ও লখনউয়ের এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকগুলিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।