কড়াকড়ি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বেরিয়ে এল বাক্সবন্দি কঙ্কাল! চাঞ্চল্যকর তথ্যে তোলপাড় রাজধানী

রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত দীনदयाल উপাধ্যায় (DDU) মার্গ এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় একটি মন্দিরের পাশেই এক কাবারির झुग्গি থেকে বাক্সবন্দি অবস্থায় একটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। আসন্ন দুর্গাপূজা ও উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে মন্দিরের কাছাকাছি এমন রহস্যজনক জিনিস উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় বড়সড় ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালীন চাঞ্চল্য:
সামনেই দুর্গাপূজা। উৎসবের প্রস্তুতি এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিন কয়েক ধরে সেন্ট্রাল দিল্লির বিভিন্ন মন্দির ও সংলগ্ন চত্বরে জোরকদমে পরিচ্ছন্নতা ও জঞ্জাল অপসারণ অভিযান চালাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) এবং স্থানীয় প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ডিডিইউ মার্গের কাছে অবস্থিত কালী মন্দির চত্বরে এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছিল। সেই সময় ওই এলাকায় থাকা একটি কাবারির झुग्গি বা অস্থায়ী আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ জঞ্জাল পরিষ্কার করার কাজ চালাচ্ছিলেন কর্মীরা। ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি বাক্সের ভেতর থেকে মানবদেহের কঙ্কাল সদৃশ অবয়ব নজরে আসে। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি চাউর হতেই আশপাশের এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
কাবারির দাবি ও প্রশাসনের জেরার মুখে রহস্য:
খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলার পাশাপাশি কঙ্কাল সদৃশ ওই অবয়বটি উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট কাবারি মোহাম্মদ শাকিল দাবি করেছে যে সে স্থানীয় একটি স্কুল থেকে কবাড়ের সামগ্রীর সঙ্গেই ওই বাক্সটি কিনে এনেছিল।
তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় প্রশাসন। স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানা গেছে, গত এক দশকে বা দীর্ঘ সময় ধরে তাদের কাছে এমন কোনো কঙ্কাল ব্যবহারের বা ফেলে দেওয়ার নজির নেই। ফলে কাবারির কাছে কীভাবে ওই কঙ্কাল এল এবং এর নেপথ্য অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিক তথ্যে এটি কৃত্রিম বা স্কুল পর্যায়ের বৈজ্ঞানিক ল্যাবরেটরির কোনো কাঠামো কি না, তা নিয়েও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে সরব বিজেপি নেতৃত্ব:
ঘটনার আকস্মিকতায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দিল্লি বিজেপির নেতারা। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আহ্বায়ক ও দলের সহ-সভাপতি রাজেশ ভাটিয়া এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের এবং নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, ধর্মীয় উৎসবের ঠিক প্রাক্কালে মন্দির চত্বরের এত কাছাকাছি মানবকঙ্কাল পাওয়ার পেছনে কোনো গভীর চক্রান্ত থাকতে পারে। পাশাপাশি, এই সংবেদনশীল এলাকায় অবৈধ জবরদখল ও অপরাধমূলক কাজকর্ম রুখতে পুলিশ ও পৌরনিগমকে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। কঙ্কালটি আসল নাকি কোনো কৃত্রিম মডেল এবং ঠিক কোন উদ্দেশ্যে সেটি সেখানে এনে রাখা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।