১০ শতাংশের বেশি লাফাবে ভারতের জিডিএপি! দেশের অর্থনীতি নিয়ে মেগা ভবিষ্যদ্বাণী অর্থমন্ত্রীর

বিশ্ব অর্থনীতির ডামাডোলের মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত মজবুত। আগামী দিনে ভারতের অর্থনীতি এক বিরাট লাফ মারতে প্রস্তুত এবং দেশে ১০ শতাংশেরও বেশি হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা জিডিপি গ্রোথ অর্জনের পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে—এমনই এক আশাব্যঞ্জক দাবি করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
তবে এই রেকর্ড প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে গেলে কেবল চিরাচরিত ধারায় চললে হবে না; বরং দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক কৌশলকে দ্রুত কাজে লাগাতে হবে বলে জোর দিয়েছেন তিনি।
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে ভর করেই হবে বাজিমাত: অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নতুন গতি দিতে প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে। ২০১৫ সাল থেকে ভারতে শুরু হওয়া ‘স্টার্টআপ’ বিপ্লব ইতিমধ্যেই দেশে নতুন কাজের সুযোগ এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করেছে।
নির্মলা সীতারামনের মতে, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু তথ্যপ্রযুক্তি (IT) বা হাই-টেক শহরের চটকদার অফিসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বরং একে একেবারে প্রান্তিক স্তর, বিশেষ করে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর রূপরেখা: ভারতে কৃষি এখনও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত তথ্য ব্যবস্থার ব্যবহার করা হলে চাষাবাদের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এতে একদিকে যেমন দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সাধারণ কৃষকদের আয়ের পথ আরও সুগম হবে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠী সরাসরি এই প্রবৃদ্ধির সুফল পাবেন।
ভারতের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ঠিক কেমন? সরকারি তথ্য অনু্যায়ী, বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছিল ৭.৪ শতাংশ। পরবর্তীতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে নামমাত্র (Nominal) জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য রাখা হয়েছে ১০ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতের পরিষেবা খাত বর্তমানে ৯.১ শতাংশের দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে। পাশাপাশি উৎপাদন ও নির্মাণ খাতও প্রায় ৭ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ চাহিদাই সবচেয়ে বড় শক্তি: বিশ্বজুড়ে মন্দার মেঘ থাকলেও ভারতের আসল শক্তি লুকিয়ে রয়েছে তার বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারে। সাধারণ মানুষের কেনাকাটা ও খরচের প্রবণতা (Personal Final Consumption Expenditure) বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক ভিত বেশ মজবুত। ২০২৬ অর্থবর্ষে ব্যক্তিগত খরচ ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে জিডিপির প্রায় ৬১.৫ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর বাইরে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিপুল সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগও (GFCF) ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
যদিও অর্থনৈতিক সমীক্ষায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির আনুমানিক হার ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়েছে, তবে অর্থমন্ত্রীর ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির বার্তা দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ডিজিটাল রূপান্তর, শ্রম সংস্কার এবং শিল্পক্ষেত্রের সম্প্রসারণের মাধ্যমেই ভারত এই মেগা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।