দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা? প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস হতে পারে!

দীর্ঘক্ষণ ধরে এক জায়গায় বসে কাজ করার পর হঠাৎ উঠে দাঁড়াতে গিয়ে যদি গোড়ালিতে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন এবং কিছুক্ষণের জন্য মাটিতে পা ফেলতে অসুবিধা হয়, তবে তা প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের লক্ষণ হতে পারে। পায়ের পাতার নীচে থাকা প্ল্যান্টার ফাসিয়া নামক একটি লিগামেন্টে টান লাগলে সাধারণত এই ব্যথা অনুভূত হয়। প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের প্রধান উপসর্গ হল গোড়ালিতে অসহ্য ব্যথা, যা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বা দীর্ঘক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর বেশি অনুভূত হতে পারে।
তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিক পরিচর্যা ও কিছু নিয়ম মেনে চললে এই ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন:
১. ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন প্ল্যান্টার ফাসিয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করে, ফলে ব্যথা বাড়তে পারে। তাই শরীরের সঠিক ওজন বজায় রাখা এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত জরুরি।
২. সঠিক জুতো নির্বাচন: উঁচু হিলের জুতো বা শক্ত সোলের জুতো এই সমস্যার ব্যথা বৃদ্ধি করতে পারে। এক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ফ্ল্যাট এবং নরম সোলের জুতো ব্যবহার করলে কিছুটা আরাম পাওয়া যেতে পারে।
৩. বরফ সেঁক: ব্যথার তীব্রতা কমাতে আক্রান্ত গোড়ালিতে বরফ সেঁক দিতে পারেন। দিনে কয়েকবার ১৫-২০ মিনিটের জন্য বরফ একটি কাপড়ে মুড়ে লাগালে প্রদাহ কমতে সাহায্য করবে।
৪. হালকা ব্যায়াম: গোড়ালির জন্য কিছু হালকা ব্যায়াম ব্যথা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে অবশ্যই কোনও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়াম শুরু করা উচিত। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত হাঁটাহাঁটি করলে ব্যথা আরও বাড়তে পারে।
গোড়ালির ব্যথা কমাতে কয়েকটি সহজ ব্যায়াম নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. স্ট্রেচিং: ঘুম থেকে উঠে বিছানা থেকে নামার আগে পায়ের পাতা উপরের দিকে টেনে ধরুন এবং কিছুক্ষণ ধরে রাখুন। এটি প্ল্যান্টার ফাসিয়ার উপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
২. টেনিস বলের ব্যবহার: একটি টেনিস বল পায়ের পাতার নীচে রেখে গোড়ালি থেকে আঙুল পর্যন্ত ধীরে ধীরে ঘোরান। দিনে কয়েকবার এটি করলে ব্যথা অনেকটা কমতে পারে। বল ঘোরানোর সময় হালকা চাপ প্রয়োগ করুন।
৩. গরম তেলের মালিশ: দিনে অন্তত একবার গরম তেল দিয়ে গোড়ালিতে মালিশ করলে ওই অংশে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
যদি আপনার গোড়ালিতে এই ধরনের ব্যথা অনুভব হয়, তবে দ্রুত একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক রোগ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের ব্যথা নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাময় সম্ভব।