রান্নার সঙ্গী সস, দাগ তোলারও সেরা হাতিয়ার!

রান্নাঘরের সাথে সসের এক নিবিড় সম্পর্ক বহুদিনের। আধুনিক এবং ফিউশন রান্নার যুগে সসের ব্যবহার আরও বেড়েছে। দেশি থেকে বিদেশি, প্রায় সব ধরনের রান্নাতেই সসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এমনকি সকালের জলখাবারে তৈরি করা চাউমিনের উপর মন ভরে সস না দিলে যেন তৃপ্তি হয় না! তবে পোশাকে অসাবধানতাবশত সস পড়ে গেলে সেই দাগ তোলা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হল, এই সস দিয়েই আপনি ঘরোয়া উপায়ে কিছু কঠিন দাগ নিমেষে তুলে ফেলতে পারেন!
আসুন, জেনে নেওয়া যাক সসের সেই আশ্চর্য ব্যবহার:
অ্যালুমিনিয়ামের সসপ্যানের পোড়া দাগ:
রান্না করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত যদি সসপ্যানের তলা পুড়ে যায়, তবে চিন্তার কিছু নেই। সসপ্যানের পোড়া অংশে খানিকটা সস ভালো করে মাখিয়ে দিন। প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা এভাবে রেখে দিন। তারপর একটি শক্ত স্ক্রাবার দিয়ে ওই পোড়া জায়গাটি ভালো করে ঘষে নিন। দেখবেন, পোড়ার কালো দাগ সহজেই উঠে গেছে।
জলের ট্যাপের ময়লা:
গোসল করার সময় বা অন্য কোনো প্রয়োজনে হঠাৎ যদি দেখেন কলের মুখ থেকে জল পড়া বন্ধ হয়ে গেছে, তবে তা খুবই বিরক্তিকর হতে পারে। অনেক সময় কলের মুখে ময়লা জমে যাওয়ার কারণে এমনটা ঘটে। মিস্ত্রি ডেকে এনে পরিষ্কার করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এর চেয়ে সহজ ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করতে পারেন। কলের মুখের চারপাশে খানিকটা সস লাগিয়ে দিন। এরপর একটি পাত্রে জলের সাথে সামান্য লেবুর রস, ভিনেগার, বেকিং সোডা এবং লবণ মিশিয়ে একটি শক্ত স্ক্রাবার ডুবিয়ে নিন। সেই স্ক্রাবার দিয়ে কলের মুখটি ভালো করে ঘষুন। দেখবেন, জমে থাকা ময়লা উঠে গিয়ে কল আবার আগের মতো জল দেওয়া শুরু করেছে।
রূপার গয়নার কালো দাগ:
বাতাসের আর্দ্রতা, ধুলোবালি এবং শরীরের ঘামের কারণে অনেক সময় শখের রূপার গয়না কালো হয়ে যায়। দোকানে পালিশ করাতে দেওয়ার পাশাপাশি আপনি ঘরোয়া পদ্ধতিতেও এটি পরিষ্কার করতে পারেন। একটি নরম ব্রাশের সাহায্যে গয়নার উপর সস মাখিয়ে নিন। প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর একটি ব্রাশ দিয়ে আলতো করে ঘষে নিন। গয়নার কালো দাগ উঠে যাবে এবং আপনার পছন্দের গয়না আবার चमक ফিরে পাবে। আরও ভালো ফল পেতে চাইলে ব্রাশটি সামান্য লেবুর রসে ভিজিয়ে নিতে পারেন।
তাহলে দেখলেন তো, শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ানোই নয়, দৈনন্দিন জীবনের কিছু কঠিন সমস্যা সমাধানেও সস কতটা কার্যকরী হতে পারে! এবার থেকে সস ব্যবহারের পর বোতলটি ফেলে দেওয়ার আগে এর বহুমুখী গুণের কথা একবার মনে রাখবেন নিশ্চয়ই।