কফি সংরক্ষণে ভুল করবেন না, রইল কিছু জরুরি টিপস

যাদের এক কাপ কফি ছাড়া সকাল শুরু হয় না, তারা প্রায়শই বাড়িতে বেশি পরিমাণে কফি মজুত করে রাখেন। তবে কফি পাউডার প্যাকেট থেকে ঢেলে রাখার পরে তার সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত থাকা জরুরি। বাজারে শিশিতে কেনা কফিও যদি ঠিকভাবে না রাখা হয়, তবে তা দলা পাকিয়ে নষ্ট হতে পারে।
অনেকেই কফিকে দীর্ঘ সময় তাজা রাখার জন্য শিশি ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখেন। তবে এটি একটি ভুল ধারণা। ফ্রিজে রাখলে কফির স্বাদ এবং গুণমান দুটোই নষ্ট হয়ে যায়। তাই আপনার প্রিয় কফিকে দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে কিছু সঠিক নিয়ম মেনে চলুন:
১. এয়ারটাইট পাত্র ব্যবহার করুন: আর্দ্র বাতাস কফিকে খুব দ্রুত নষ্ট করে ফেলে। তাই কফি সবসময় এয়ারটাইট কৌটোতে রাখা উচিত। কাঁচের শিশি, কাঠের বা সেরামিকের পাত্র কফি সংরক্ষণের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। কফির প্যাকেট খোলা অবস্থায় রাখলে তাতে বাতাস ঢুকে দলা পাকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই কৌটোর ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করে রাখুন।
২. সরাসরি আলো ও তাপ এড়িয়ে চলুন: কফির কৌটো এমন জায়গায় রাখুন যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছায় না। জানালার ধারে অথবা গ্যাসের চুল্লির কাছে কফির কৌটো রাখা উচিত নয়। অতিরিক্ত আলো ও তাপের সংস্পর্শে এলে কফি খুব তাড়াতাড়ি তার গুণাগুণ হারাতে পারে।
৩. সঠিক কাঁচের শিশি নির্বাচন: দেখতে আকর্ষণীয় হলেও অতিরিক্ত শৌখিন কাঁচের জার বা শিশিতে কফি না রাখাই ভালো। এমন কাঁচের শিশি বেছে নিন যার ভিতরে বাতাস প্রবেশ করতে না পারে। এর ফলে কফি দীর্ঘ দিন টাটকা থাকবে।
৪. তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার থেকে দূরে রাখুন: কফির কৌটো কখনোই চড়া গন্ধযুক্ত খাবার অথবা মসলার কাছাকাছি রাখবেন না। ঝাঁঝালো গন্ধ খুব সহজেই কফির নিজস্ব সুগন্ধকে নষ্ট করে দিতে পারে।
৫. একসাথে সব কফি ঢালবেন না: কফি পাউডারের পুরোটা একটি পাত্রে না ঢেলে আলাদা আলাদা ছোট পাত্রে সংরক্ষণ করুন। এতে কফি তাড়াতাড়ি দলা পাকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
অন্যান্য পচনশীল খাবারের মতো কফির নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ না থাকলেও, সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করলে কফি বিন্স বা কফি গুঁড়ো বছরের পর বছর একই রকমভাবে ভালো থাকতে পারে। সঠিকভাবে সংরক্ষিত কফি পান করলে পেটের সমস্যা হওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই।
প্রসঙ্গত, ১৯৮২ সালে বোস্টন থেকে লিসবনগামী একটি বিমানের কর্মীদের পুডিং খাওয়ার পরে খাদ্য বিষক্রিয়ার শিকার হওয়ার একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য। সেই ঘটনার পর থেকে বিমান সংস্থাগুলো পাইলটদের খাবারের বিষয়ে বিশেষ নিয়ম চালু করে। পাইলটদের জন্য তৈরি খাবারের তালিকায় মাছ, মাংস বা পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর কোনো খাবার সরবরাহ করা নিষিদ্ধ করা হয়। শুধু তাই নয়, নিরাপত্তার খাতিরে পাইলট ও কো-পাইলটের খাবারের তালিকাও আলাদা রাখা হয়, যাতে একজন অসুস্থ হলেও অন্যজন নিরাপদে বিমান পরিচালনা করতে পারেন। এছাড়াও, উড়ন্ত অবস্থায় ককপিটে কারা থাকবেন, তা ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন কর্তৃক নির্ধারিত হয়।