ওজন কমাতে লো-কার্ব ডায়েট? ফ্যাট বাদ দিলেই বিপদ!

ওজন কমানোর জন্য আজকাল অনেকেই লো-কার্ব ডায়েটের দিকে ঝুঁকছেন। এই ডায়েটে শস্য, ডাল, রুটি, আলু ও মিষ্টি ফল জাতীয় খাবার কমিয়ে প্রোটিন ও ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়। এটি টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং বিপাকজনিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে। তবে লো-কার্ব ডায়েটের সম্পূর্ণ সুবিধা পেতে শুধুমাত্র কার্বোহাইড্রেট কম গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়। শরীরের প্রয়োজনীয় ক্যালোরি ফ্যাট এবং প্রোটিন থেকেও গ্রহণ করতে হয়।
অনেকেরই ধারণা ফ্যাট শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং তা ঝরিয়ে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ সত্য নয়। প্রয়োজনীয় ফ্যাট বাদ দিলে আপনার ক্ষুধা আরও বেড়ে যেতে পারে এবং শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই লো-কার্ব ডায়েটে ফ্যাটের সঠিক পরিমাণ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
লো-কার্ব ডায়েট থেকে সেরা ফল পেতে যা করবেন:
আপনার দৈনিক ক্যালোরির ৪০% ফ্যাট এবং ৩৫% প্রোটিন থেকে আসা উচিত। বাকিটা কার্বোহাইড্রেট থেকে গ্রহণ করা যেতে পারে। ওজন কমানোর জন্য দৈনিক ১৫০০ ক্যালোরি গ্রহণ করা আদর্শ। এর মধ্যে ৬০০ ক্যালোরি ফ্যাটযুক্ত খাবার থেকে আসা উচিত। যেহেতু ১ গ্রাম ফ্যাট ৯ ক্যালোরির সমান, তাই প্রতিদিন প্রায় ৬৭ গ্রাম ফ্যাট গ্রহণ করা প্রয়োজন।
একটি ভালো নিয়ম হল, আপনার কাঙ্ক্ষিত ওজনের প্রতি পাউন্ডের জন্য ০.৪ থেকে ০.৫ গ্রাম ফ্যাট গ্রহণ করা।
খাবারের সাথে আপনি কোন ধরনের ফ্যাট ও প্রোটিন গ্রহণ করছেন সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। আপনার খাদ্যতালিকায় বেশি পরিমাণে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট যোগ করা উচিত। এতে প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজ পদার্থ থাকে যা ওজন কমানোর সময় আপনার স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সহায়ক। বাদাম, বীজ, সামুদ্রিক মাছ, ছোলা এবং কিছু দুগ্ধজাত খাবারে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়।
সুতরাং, লো-কার্ব ডায়েট অনুসরণ করার সময় ফ্যাটের গুরুত্ব উপলব্ধি করা এবং সঠিক পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ করা ওজন কমানোর পাশাপাশি আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।