‘বিজেপির তামাক খাচ্ছেন না, সেটাই প্রমাণ করতে চাইলেন!’ মমতার ফোন নিয়ে বিস্ফোরক মহম্মদ সেলিম!

নির্বাচন কমিশন, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক কাঠামো রক্ষার মতো জাতীয় ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএমের মধ্যকার রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির ফোনালাপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ডানা মেলেছে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মুখ খুলেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। অত্যন্ত কড়া ও রাজনৈতিকভাবে ব্যঙ্গাত্মক সুরে তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি আর বিজেপির ‘তামাক’ খাচ্ছেন না।

সেলিমের কড়া আক্রমণ ও প্রাসঙ্গিকতার প্রশ্ন: গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মহম্মদ সেলিম বলেন, “যাঁরা একসময় বলতেন বাংলায় সিপিএম নেই, বামফ্রন্ট শেষ এবং লালঝান্ডার আর কোনো রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা নেই, আজ তাঁদেরই রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতার টানে সিপিএমের সঙ্গে কথা বলতে হচ্ছে।” তাঁর কটাক্ষ, এমএ বেবিকে ফোন করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে তিনি বিজেপির লাইনে আর নেই।

তবে এই যোগাযোগের পেছনে কোনো ধরনের নির্বাচনী জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে— এমন দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এর মধ্যে ‘একসঙ্গে ভোট লড়ার’ কোনো অর্থ খোঁজা ভুল হবে।

আন্দোলনের রূপরেখা ও চিঠি বিতর্ক: বাম শিবিরের দাবি, নির্বাচন কমিশন ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে সিপিএম ইতিমধ্যেই অন্যান্য বামপন্থী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর শহীদ ভগৎ সিংহের জন্মদিবস থেকে শুরু করে ২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী পর্যন্ত দেশজুড়ে যৌথ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ কর্মসূচি পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজেপির সঙ্গে সমঝোতাহীন সমস্ত রাজনৈতিক দলকেই এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।

সেলিমের দাবি, সেই চিঠি পাওয়ার পরেই  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএম নেতা এমএ বেবির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন এবং এই প্রতিবাদ আন্দোলনে থাকার ব্যাপারে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

নির্বাচনের বাইরের রাজনীতি: রাজনীতিকে শুধুমাত্র ভোট বা ক্ষমতার লড়াই হিসেবে দেখার প্রবণতাকে সমালোচনা করে সেলিম জানান, ভোটের রাজনীতি ছাড়াও সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা, বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই এবং গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো টিকিয়ে রাখার মতো বহু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে। সেই লড়াইয়ে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজন থাকলেও, এই ফোনালাপ বা আন্দোলনকে নির্বাচনী সমঝোতার সঙ্গে গুলিয়ে না ফেলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।