দল হারতেই বোমা ফাটালেন ঋজু! ‘নেপো কিড’ খোঁচায় বিদ্ধ অভিষেক? আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক টাকার খেলা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় পালাবদল ঘটেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে মসনদে আসীন হয়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই নজিরবিহীন পরাজয়ের পর এবার তৃণমূলের অন্দরমহল থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। দলের পরাজয়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে যখন শীর্ষ নেতৃত্ব দিশেহারা, ঠিক তখনই শৃঙ্খলার গণ্ডি ভেঙে মুখ খুললেন তৃণমূলের পরিচিত মুখ ও মুখপাত্র ঋজু দত্ত। ফলাফল ঘোষণার পরই বিজেপির প্রশংসা এবং দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাঁকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল। আর এই শাস্তির পরই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজপথ— সর্বত্র বোমা ফাটাতে শুরু করেছেন ঋজু।

‘নেপো কিড’ বনাম লড়াইয়ের সৈনিক
সাসপেন্ড হওয়ার ঠিক পরেই ঋজু দত্ত তাঁর ফেসবুক ওয়ালে এক আবেগঘন অথচ আক্রমণাত্মক পোস্ট করেন। সেখানে তিনি নিজেকে লড়াইয়ের সৈনিক হিসেবে দাবি করে সরাসরি বিঁধেছেন দলের ‘নেপোটিজম’ বা স্বজনপোষণ সংস্কৃতিকে। তিনি লেখেন, “যে দলকে আমার যৌবনের ১৩টা বছর দিয়েছি, নিরন্তর পরিশ্রম করেছি নিজেকে প্রমাণ করার জন্য, আজ সেই দলই আমাকে ৬ বছরের জন্য সরিয়ে দিল। আমি কোনো ‘নেপো কিড’ নই যে উত্তরাধিকার সূত্রে পদ পেয়েছি, আমি নিজের দক্ষতায় উঠে এসেছিলাম। আজ শুধু সত্যি কথা বলার অপরাধে আমাকে এই শাস্তি দেওয়া হলো।” রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই ‘নেপো কিড’ তকমা দিয়ে তিনি পরোক্ষভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাউকেই নিশানা করেছেন।

আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে টিকিট বিক্রির অভিযোগ
ঋজু দত্তর সবথেকে ভয়ঙ্কর অভিযোগ দলের নির্বাচনী রণকৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর বিরুদ্ধে। সাংবাদিকদের সামনে তিনি স্পষ্ট জানান, শেষ ছয় মাস দল পুরোপুরি আইপ্যাক-এর হাতে বন্দি ছিল। তাঁর দাবি, “আইপ্যাক টিকিট দেওয়ার নাম করে ২০ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থেকে আমাকে টিকিট দেওয়ার টোপ দিয়ে আইপ্যাক-এর কর্তারা ৫০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন। আমি বাড়ি এসে মা ও স্ত্রীকে সে কথা বললে তাঁরা নিজেদের গয়না আমার হাতে তুলে দেন। কিন্তু আমার বিবেক সায় দেয়নি, আমি সেই টাকা ফেরত দিই। আজ বুঝতে পারছি, ঠাকুর আমাকে বাঁচিয়েছেন।” ঋজুর আরও দাবি, আইপ্যাক শুধু টাকা নেয়নি, তারা তলে তলে বিজেপির সঙ্গেও গোপন আঁতাত বা ‘সেটিং’ করে তৃণমূলকে শেষ করে দিয়েছে।

পরাজয়ের নেপথ্যে জনরোষ ও নিচুতলার দুর্নীতি
তৃণমূলের এই ভরাডুবির জন্য ঋজু দত্ত সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন নিচুতলার নেতা, কাউন্সিলর ও পঞ্চায়েত প্রধানদের। তাঁর অভিযোগ, পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদ— সব স্তরের জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের ওপর চরম অত্যাচার চালিয়েছেন। দিনরাত তোলাবাজি, কাটমানি এবং সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করার কারণেই মানুষ ইভিএমে জবাব দিয়েছে। বিশেষ করে মহিলাদের অসম্মান করার বিষয়টিও তিনি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মমত্বহীন দল ও বিজেপির ‘সহযোগিতা’
সবথেকে অবাক করা দাবিটি ঋজু করেছেন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে। তিনি জানান, ভোটের ফল বেরোনোর পর এবং দল বিপর্যয়ের মুখে পড়ার পর যখন তৃণমূলের কোনো শীর্ষ নেতা তাঁর ফোন ধরেননি, তখন তাঁকে সাহায্য করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। আক্রমণ থেকে বাঁচানো বা কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে গেরুয়া শিবিরই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ঋজু দত্তর এই সব বিস্ফোরক অভিযোগের পর রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— তবে কি ঋজু দত্তর পরবর্তী গন্তব্য বিজেপি? তিনি নিজেই অবশ্য বলে রেখেছেন, “কথা দিচ্ছি—আবার দেখা হবে।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy