সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন! অযোধ্যা রামমন্দির দুর্নীতি তদন্তে নতুন আইপিএস দল ময়দানে!

অযোধ্যার ঐতিহাসিক রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ তছরুপ এবং দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তদন্তের গতি বহুগুণ বাড়াতে এবার বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি (SIT) আমূল পুনর্গঠন করল উত্তর প্রদেশ সরকার। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের অত্যন্ত কড়া মনোভাব এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশ জারির পরেই নড়েচড়ে বসে তড়িঘড়ি এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। নবগঠিত এই বিশেষ তদন্তকারী দলকে আরও বেশি শক্তিশালী, কার্যকর এবং দক্ষ করে তুলতে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তিনজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ান আইপিএস (IPS) অফিসারকে। নতুন এই হাই-প্রোফাইল তদন্তকারী দলের ওপর নেতৃত্বভার অর্পণ করা হয়েছে আইজি (IG) কিরণ এস-এর ওপর। তাঁর সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ দলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন অযোধ্যার ডিআইজি (DIG) সোমেন বর্মা এবং এসএসপি (SSP) গৌরব গ্রোভার।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রামমন্দিরের পবিত্র তহবিলে অনুদান চুরির এই স্পর্শকাতর মামলায় নতুন করে একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী সিট (SIT) গঠনের জন্য গত ১৩ জুলাই অত্যন্ত কড়া নির্দেশ দিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিল যে, প্রযুক্তিগত ক্ষেত্র ও আর্থিক জালিয়াতি সংক্রান্ত অপরাধের তদন্তে বিশেষভাবে পারদর্শী এবং অভিজ্ঞ পুলিশ কর্তারাই শুধুমাত্র এই ধরনের অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ের সঠিক ও গভীরে গিয়ে তদন্ত করতে সক্ষম। এর আগে লখনৌয়ের কমিশনার বিজয় বিশ্বাস পন্থ এবং অর্থ দপ্তরের সচিব নীল রতন কুমার-সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিক পুরোনো সিট দলের সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন। তবে শীর্ষ আদালতের নতুন বেঞ্চ পুরোনো দল ভেঙে নতুন অভিজ্ঞ দল গঠনের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আগামী ২৭ জুলাই অর্থাৎ ঠিক আজকের মধ্যেই আদালতে তদন্তের একটি প্রারম্ভিক প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করার কঠোর নির্দেশ জারি করেছিল।
রামমন্দিরে অর্থ তছরুপের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত শুরু করে সিট। এই মামলার তদন্তের খাতিরে মন্দিরের অন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখার পাশাপাশি অনুদানের হিসাবের পুরনো খাতা, দানবাক্স বা কাউন্টার থেকে টাকা গোনার কড়া নিয়মাবলী এবং সমস্ত আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল ও শারীরিক নথি বারংবার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, দুর্নীতির এই যোগসূত্র খুঁজে বের করতে মন্দিরের একাধিক কর্মী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক আধিকারিকদের মুখোমুখি বসিয়ে দীর্ঘ জেরা ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্টে টাকা গোনার এবং তা ব্যাংকে বা নির্দিষ্ট তহবিলে জমা দেওয়ার গোটা প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত বড়সড় গাফিলতি এবং ভয়ংকর নয়ছয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলায় ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বর্তমানে উত্তর প্রদেশ সরকারের নির্দেশে পুনর্গঠিত এই নতুন আইপিএস অফিসারদের চৌকস দলটি পুরোনো দলের সংগৃহীত সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও নথি নতুন করে গভীরভাবে পুনর্মূল্যায়ন করছেন। একই সঙ্গে অপরাধের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি মন্দিরের সমস্ত ডিজিটাল ডাটা এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত যাবতীয় আর্থিক লেনদেনের ওপর অত্যন্ত কড়া নজর রাখছেন তদন্তকারীরা। সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর অনুদান তছরুপ মামলার অন্তিম সত্য উন্মোচন করতে এবং দোষীদের কঠোর আইনের আওতায় আনতে এখন সম্পূর্ণ তৎপর বিশেষ তদন্তকারী দল।