“সাহস কত দেখুন!” নিজের কেন্দ্রে সভার অনুমতি না পেয়ে রণচণ্ডী মমতা, কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

সোমবারের পর মঙ্গলবার—নিজের খাসতালুক ভবানীপুরে টানা দু’দিন ধরে জনসংযোগে নামলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে প্রচারের মেজাজ ছাপিয়ে এদিন বড় হয়ে উঠল ‘অনুমতি’ বিতর্ক। বড়বাজারের কলিন্স লেনে প্রচারসভা করার অনুমতি না পেয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে আটকাতে ‘গদ্দার’ রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর তোপ ও চা-চক্রের চ্যালেঞ্জ:
মঙ্গলবার জগদ্দলের জনসভা এবং বড়বাজারের প্রচার—উভয় জায়গাতেই মমতা সুর চড়ান। তিনি অভিযোগ করেন, “কলিন্স লেনে কোনও দলের মিটিং ছিল না, তাও আমাকে সভার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অথচ প্রধানমন্ত্রী আবেদন করলে ৬ ঘণ্টার মধ্যে অনুমতি পেয়ে যান।” সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সভা করতে না দিলে নেই, কিন্তু নিজের কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে আমি কি চা খেতেও যেতে পারব না? সাহস থাকলে আমার চা খাওয়া আটকে দেখাও।” কথা মতোই এদিন বিকেলে কলিন্স লেনে পৌঁছে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বসে চা খেয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানান তিনি।

রিটার্নিং অফিসারকে হুঁশিয়ারি:
প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে মমতা বলেন, “একজন গদ্দারকে রিটার্নিং অফিসার করে আনা হয়েছে। আমি দেখব নির্বাচনের পরে বিজেপি তোমাকে গভর্নর করে না রাষ্ট্রপতি!” তাঁর দাবি, সভার দরকার নেই, তিনি রাস্তায় দাঁড়ালেই মানুষের ঢল নামবে। এদিন ফিরহাদ হাকিমকে সঙ্গে নিয়ে গঙ্গা-যমুনা সহ একাধিক আবাসনে ঘোরেন তিনি। সেখানে মহিলা বিল ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের কড়া সমালোচনা করেন তৃণমূলনেত্রী।

কমিশনের পালটা জবাব:
এদিকে মমতার এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী রোড শো-এর জন্য কোনও আবেদনই করেননি। বর্তমানে সমস্ত আবেদন অনলাইনে ‘সুবিধা’ অ্যাপের মাধ্যমে করতে হয়। মমতার তরফে আবেদন করা হলেও পরে তা নাকি সিস্টেম থেকে ডিলিট করে দেওয়া হয়েছিল। পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণেই এই বিভ্রাট বলে ইঙ্গিত কমিশনের।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy