লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমানের ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার যে পরিকল্পনা কেন্দ্র নিয়েছে, তা নিয়ে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর মনে এক ধরণের ‘অজ্ঞাত ভয়’ কাজ করছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পুরস্কার হিসেবে আসন কমানো হতে পারে দক্ষিণের। বৃহস্পতিবার সংসদে দাঁড়িয়ে সেই আশঙ্কার মেঘ সরিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
অমিত শাহ স্পষ্ট গাণিতিক তথ্য দিয়ে দেখান যে, নতুন সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ‘ডিলিমিটেশন’-এর ফলে দক্ষিণের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমানের ১২৯ থেকে বেড়ে ১৯৫ হতে চলেছে। অর্থাৎ, দক্ষিণের ঝোলায় যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত ৬৬টি আসন।
অমিত শাহের দেওয়া দক্ষিণের ৫ রাজ্যের নতুন আসন বিন্যাস:
| রাজ্যের নাম | বর্তমান আসন | প্রস্তাবিত নতুন আসন | বৃদ্ধির হার |
| তামিলনাড়ু | ৩৯ | ৫৯ | ২০টি বৃদ্ধি |
| কর্ণাটক | ২৮ | ৪২ | ১৪টি বৃদ্ধি |
| অন্ধ্রপ্রদেশ | ২৫ | ৩৮ | ১৩টি বৃদ্ধি |
| তেলেঙ্গানা | ১৭ | ২৬ | ৯টি বৃদ্ধি |
| কেরল | ২০ | ৩০ | ১০টি বৃদ্ধি |
হিসেব নিয়ে শাহের ব্যাখ্যা:
অমিত শাহ জানান, সরকার একটি সরল ফর্মুলা ব্যবহার করছে— প্রতিটি রাজ্যের বর্তমান আসন সংখ্যাকে ৫০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কর্ণাটকের বর্তমানে ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৫.১৫% প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। আসন সংখ্যা বেড়ে ৮৫০ হলেও কর্ণাটকের প্রতিনিধিত্বের হার ৫.১৪% বজায় থাকবে। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে কোনো রাজ্যই তার গুরুত্ব হারাবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন যে, এই পুনর্বিন্যাসের ফলে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর আধিপত্য বাড়বে বলে যে রটনা চলছে, তা ভিত্তিহীন। বরং এর ফলে প্রতিটি রাজ্যের মানুষের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে এবং সংসদীয় কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।





