ওড়িশায় শ্যুটিং করতে গিয়ে বাঙালি অভিনেতা রাহুলের মর্মান্তিক মৃত্যুতে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তদন্তের রাশ শক্ত করতে বাংলায় পা রাখতে চলেছে ওড়িশা পুলিশ। রাহুলের পরিবারের পক্ষ থেকে গাফিলতির অভিযোগ তোলা হতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। অভিনেতার মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও ‘ফৌজদারি অবহেলা’ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই তৎপরতা।
তদন্তের নিশানায় একাধিক প্রশ্ন: রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ওড়িশা পুলিশের হাতে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীরা যে বিষয়গুলোতে জোর দিচ্ছেন:
নিরাপত্তার অভাব: শ্যুটিং স্পটে কি জীবনদায়ী কোনও সরঞ্জাম বা উদ্ধারকারী দল মজুত ছিল?
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা: কেন চোরাবালির মতো অত্যন্ত বিপদজনক জায়গায় কোনওরকম সতর্কতা ছাড়াই শ্যুটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হলো?
ইউনিটের ভূমিকা: ঘটনার সময় ইউনিটের বাকি সদস্যরা কী করছিলেন? কেন রাহুলকে সময়মতো উদ্ধার করা সম্ভব হলো না?
বাংলায় ওড়িশা পুলিশের অভিযান: সূত্রের খবর, শ্যুটিং ইউনিটের সদস্যদের বয়ান রেকর্ড করতে এবং শ্যুটিংয়ের নথিপত্র খতিয়ে দেখতে ওড়িশা পুলিশের একটি বিশেষ দল আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই কলকাতায় পৌঁছবে। রাহুলের সহ-অভিনেতা ও টেকনিশিয়ানদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি প্রযোজনা সংস্থার কাছ থেকে শ্যুটিংয়ের অনুমতিপত্রও চেয়ে পাঠানো হতে পারে।
পরিবারের অভিযোগ: রাহুলের পরিবারের দাবি, এটি স্রেফ দুর্ঘটনা নয়। তাঁদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বিপজ্জনক পরিবেশে রাহুলকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এখন ‘কালপেবল হোমিসাইড’ বা অনিচ্ছাকৃত খুনের দিকটিও খতিয়ে দেখছে।
শ্যুটিং ফ্লোরের গ্ল্যামারের আড়ালে কি তবে লুকিয়ে ছিল চরম অব্যবস্থা? ওড়িশা পুলিশের তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে যে, রাহুলের এই অকালমৃত্যুর দায় আসলে কার। আপাতত গোটা টলিউড এই রহস্যের কিনারা হওয়ার অপেক্ষায়।




