ভারতের সর্ববৃহৎ আইটি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর অন্দরমহলে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংস্থার কিছু মহিলা কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে যৌন হয়রানি করা হয়েছে এবং তাঁদের ওপর ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। এমনকি এই ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্র থাকতে পারে বলেও প্রাথমিক সন্দেহে উঠে আসছে।
১. কী এই অভিযোগ?
সংস্থার কয়েকজন মহিলা কর্মী অভিযোগ করেছেন যে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একাংশ তাঁদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের একটি বিশেষ ধর্ম গ্রহণ করতে প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা এই প্রস্তাবে রাজি হননি, তাঁদের বিভিন্নভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে দাবি।
২. আন্তর্জাতিক জঙ্গিযোগের সন্দেহ
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর প্রাথমিক ধারণা, এটি কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো যৌন হেনস্থার ঘটনা নয়। এর শিকড় অনেক গভীরে ছড়ানো থাকতে পারে। সন্দেহ করা হচ্ছে, কোনো আন্তর্জাতিক মৌলবাদী বা জঙ্গি গোষ্ঠী কর্পোরেট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে ‘সফট টার্গেট’ (Soft Target) হিসেবে শিক্ষিত তরুণীদের মগজধোলাই বা রিক্রুটমেন্টের ছক কষছে। এই ‘স্লিপার সেল’ মডিউলটি আইটি সংস্থার ভেতরে বসে কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
৩. TCS কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
এই খবর সামনে আসার পরপরই TCS-এর পক্ষ থেকে কড়া বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সংস্থা জানিয়েছে, “যৌন হেনস্থা বা কোনো ধরণের বৈষম্যের ক্ষেত্রে আমাদের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’। অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।” সংস্থাটি তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
৪. সাইবার ও গোয়েন্দা নজরদারি
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই এই ঘটনার ওপর নজরদারি শুরু করেছে। যদি সত্যিই কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে এটি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড়সড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আইটি সেক্টরে কর্মরত কর্মীদের নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।





