২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে রাজনীতির ময়দান ছেড়ে এবার কি তবে আইনের আঙিনায় ফিরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূল সুপ্রিমোর এক অভূতপূর্ব উপস্থিতি ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা। এদিন স্রেফ সাধারণ নাগরিক বা রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, একেবারে পূর্ণ আইনি পোশাকে—কালো কোট ও সাদা ব্যান্ড পরে প্রধান বিচারপতির এজলাসে উপস্থিত হন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আর এই ঘটনা ঘিরেই এবার নড়চড়ে বসল ‘বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’ (BCI)।
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে মমতা
ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এদিন হাইকোর্টে উপস্থিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি ছিল। সাধারণত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা আদালতে উপস্থিত হলেও, মমতার এই ‘লুক’ সবাইকে চমকে দিয়েছে। তিনি আইনজীবীদের জন্য নির্ধারিত নির্দিষ্ট ড্রেস-কোড মেনেই আদালতে হাজির হন।
বিসিআই-এর কড়া চিঠি: কী জানতে চাইল দিল্লি?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি সাজে উপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই জলঘোলা শুরু হয়েছে। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের নজরে আসতেই রাজ্য বার কাউন্সিলের কাছে জবাব তলব করেছে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। বিসিআই-এর প্রধান সচিব শ্রীমন্ত সেন একটি বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্য বার কাউন্সিলের কাছে মমতার আইন পেশা সংক্রান্ত একাধিক নথিপত্র চেয়ে পাঠিয়েছেন:
তালিকাভুক্তি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এনরোলমেন্ট নম্বর এবং তিনি কবে আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন।
পেশার স্থিতি: ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। সেই দীর্ঘ সময় কি তাঁর আইনি পেশা বা প্র্যাকটিস স্থগিত ছিল?
পুনরায় শুরু: মুখ্যমন্ত্রী পদ হারানোর পর তিনি কি নিয়ম মেনে ফের পেশা শুরুর আবেদন জানিয়েছেন?
বৈধতা: বর্তমানে তাঁর প্র্যাকটিস সার্টিফিকেট বৈধ বা সক্রিয় আছে কি না।
বিসিআই স্পষ্ট জানিয়েছে, একজন আইনজীবী যখন কোনও সাংবিধানিক পদে বসেন, তখন তাঁর প্র্যাকটিস স্থগিত রাখতে হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম কতটা পালিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতেই এই তৎপরতা।
ভোটের হারের ১০ দিন পর প্রকাশ্য রাজপথে
গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল। নিজ কেন্দ্র ভবানীপুর-সহ গোটা রাজ্যে হারের পর কার্যত লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটের বাড়ির ভেতরে রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন বা প্রেস কনফারেন্স করলেও, ১০ দিন পর এই প্রথম তিনি বাড়ির চৌহদ্দি পেরিয়ে হাইকোর্টে এলেন। আর প্রথমবার প্রকাশ্য আসতেই তাঁর পরনের ‘কালো কোট’ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক দানা বাঁধল।
আগামী ২ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলকে এই সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য ও রেকর্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিসিআই। দিল্লির এই বার্তার পর এখন রাজ্যের আইনজীবী মহলে প্রশ্ন—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আইনজীবী পরিচয়’ কি তবে প্রশ্নের মুখে?





