লাল মাটির আঙিনায় প্রভাতী সূর্যের আলো ফুটতেই বেজে উঠল বৈতালিকের সুর। রবীন্দ্রগান, বৈদিক মন্ত্রপাঠ এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ উপাসনার মধ্য দিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী পালিত হলো ইউনেস্কো স্বীকৃত ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ বিশ্বভারতীতে। ২০২৩ সালে হেরিটেজ তকমা পাওয়ার পর এটিই ছিল বিশ্বভারতীর প্রথম বড়মাপের রবীন্দ্র জন্মোৎসব, যা আশ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক বাড়তি উন্মাদনা যোগ করেছে।
এদিন ভোরে গৌড়প্রাঙ্গণে বৈতালিকের মাধ্যমেই উৎসবের সূচনা হয়। এরপর সাড়ে পাঁচটায় রবীন্দ্রভবনে অনুষ্ঠিত হয় ‘কবিকণ্ঠ’ অনুষ্ঠান। সাতটায় ঐতিহ্যবাহী কাঁচ মন্দিরে (উপাসনা গৃহ) ব্রহ্ম উপাসনা ও বৈদিক মন্ত্রপাঠে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি হয়। সকাল ন’টায় মাধবীবিতানে মূল অনুষ্ঠানটি পালিত হয় উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষের তত্ত্বাবধানে। তিনি রবীন্দ্রভবনে কবির ব্যবহৃত শূন্য চেয়ারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতীগ ঘোষসহ আশ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্র জন্মোৎসব উদযাপনের ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়। রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশা থেকেই এই ঐতিহ্য চলে আসছে। তবে ১৯৩৬ সালে বীরভূমের তীব্র দাবদাহ ও আশ্রমে তীব্র জলকষ্টের কারণে কবি নিজেই পঁচিশে বৈশাখের বদলে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষের দিন জন্মদিন পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেই নিয়ম দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসছিল। কিন্তু গত এক দশক ধরে পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও জলকষ্ট দূর হওয়ায় ফের পঁচিশে বৈশাখেই এই উৎসব উদযাপন করছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।
উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, “প্রথা মেনে দিনভর নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গুরুদেবের জন্মদিন পালন করছি আমরা। হেরিটেজ তকমার পর আমাদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে, এই ঐতিহ্য আমরা সগৌরবে রক্ষা করব।” বর্তমান ছাত্রীদের মধ্যে মেহেলী সাঁই ও পূর্বাশা সামন্তের কথায়, “রবীন্দ্রনাথ বাঙালির হৃদয়ে ও মননে চিরকাল মিশে আছেন। বিশ্বভারতীর মনোরম পরিবেশে এই দিনটি আমাদের কাছে পরম আবেগের।” ১৮৬১ সালের ৭ মে জোড়াসাঁকোয় কবির জন্ম হলেও তাঁর প্রাণের আরাম ছিল এই শান্তিনিকেতনই, যেখানে আজ সারা বিশ্ব শ্রদ্ধাবনত।





