সুস্থ থাকতে আমরা কত কী-ই না করি! কড়া ডায়েট থেকে শুরু করে জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাম ঝরানো—সবই আছে আমাদের তালিকায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট হাততালি দিলে আপনি অনেক বড় বড় রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন? সাম্প্রতিক কিছু চিকিৎসা সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, ‘ক্ল্যাপিং থেরাপি’ বা হাততালির অভ্যাস মানবশরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম।
হাতের তালুতেই লুকিয়ে সুস্থতার চাবিকাঠি:
আকুপেশার বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের হাতের তালুতে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন—হার্ট, ফুসফুস, কিডনি এবং পাকস্থলীর সাথে যুক্ত একাধিক ‘প্রেশার পয়েন্ট’ বা স্নায়ুবিন্দু থাকে। যখন আমরা জোরে হাততালি দিই, তখন এই পয়েন্টগুলোতে চাপ পড়ে, যা রক্ত সঞ্চালনকে উদ্দীপিত করে।
হাততালি দেওয়ার অবিশ্বাস্য সুফলসমূহ:
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: নিয়মিত হাততালি দিলে ধমনীর ভেতরে থাকা কোলেস্টেরল দূর হতে সাহায্য করে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়। এর ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
হজমের সমস্যা মেটায়: যাদের দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ক্ল্যাপিং থেরাপি অত্যন্ত কার্যকর। এটি অন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
মানসিক চাপ ও অবসাদ মুক্তি: হাততালি দেওয়ার সময় মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ ও ‘সেরোটোনিন’-এর মতো ফিল-গুড হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মুহূর্তেই আপনার ক্লান্তি ও মানসিক চাপ কমিয়ে দেয়।
ফুসফুসের শক্তি বৃদ্ধি: যারা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য হাততালি দেওয়া একটি ব্যায়ামের মতো কাজ করে। এটি ফুসফুসে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity): নিয়মিত এই অভ্যাস রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ বাড়ায়, যা শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শক্তিশালী করে তোলে।
কীভাবে করবেন ক্ল্যাপিং থেরাপি?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন সকালে অন্তত ২ থেকে ৫ মিনিট এই থেরাপি করা সবচেয়ে ভালো। তালি দেওয়ার আগে হাতে সামান্য নারকেল তেল বা সরষের তেল মাখিয়ে নিতে পারেন, এতে শরীরের চামড়া ও স্নায়ু আরও উদ্দীপিত হয়।