লিচু কেনার আগে ধোঁকা খাচ্ছেন না তো? ভালো ও রসালো লিচু চেনার ৫টি গোপন টিপস

বাজারে এখন লিচুর রমরমা। ছোট-বড় সবারই পছন্দের এই ফলের চাহিদা আকাশচুম্বী হওয়ায় কিছু অসাধু বিক্রেতা অনেক সময় পুরোনো বা রাসায়নিক মেশানো লিচু বিক্রি করে থাকেন। শরীর ও স্বাস্থ্যের কথা ভেবে লিচু কেনার সময় নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই যাচাই করে নিন:

১. রঙের কারসাজি বুঝুন: লিচুর খোসার স্বাভাবিক রঙ সাধারণত উজ্জ্বল লাল বা হালকা গোলাপি হয়। খোসায় অতিরিক্ত কালচে বা বাদামি দাগ থাকলে তা পুরোনো বা পচে যাওয়ার লক্ষণ। তবে মনে রাখবেন, অস্বাভাবিক চকচকে বা নিখুঁত লিচু এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এতে কৃত্রিম রং থাকতে পারে। হাতে নেওয়ার পর পানি লাগালে যদি রং উঠে আসে, তবে তা কিনবেন না।

২. খোসার গঠন ও দৃঢ়তা: ভালো লিচুর খোসার ওপরের কাঁটাগুলো তুলনামূলক সমতল ও ছড়ানো থাকে। আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিলে এটি সামান্য নমনীয় অনুভূত হওয়া উচিত। খুব বেশি শক্ত হলে তা কাঁচা, আর অতিরিক্ত নরম হলে ভেতরে পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। খোসায় ছিদ্র বা ফুটো থাকলে তাতে পোকা থাকার ঝুঁকি বেশি।

৩. বোঁটার ঘ্রাণই আসল: তাজা লিচুর বোঁটার কাছাকাছি হালকা মিষ্টি ঘ্রাণ থাকে। যদি টক বা অ্যালকোহলের মতো গন্ধ পাওয়া যায়, তবে বুঝবেন লিচুটি দীর্ঘসময় আগের অথবা ভেতরে নষ্ট হতে শুরু করেছে।

৪. ডালসহ লিচু কিনুন: সম্ভব হলে গুচ্ছ বা ডালসহ লিচু কেনার চেষ্টা করুন। ডাল বেশি শুকনো বা ঝরঝরে হলে বুঝতে হবে লিচুটি অনেক আগে গাছ থেকে পাড়া হয়েছে। ডালসহ লিচু বেশি সতেজ থাকে।

৫. আকৃতি ও ওজন: সাধারণত ডিম্বাকৃতি বা গোলাকার এবং ওজনে ভারী লিচু বেশি রসালো হয়। চ্যাপ্টা বা অস্বাভাবিক আকৃতির লিচুতে শাঁসের চেয়ে বিচির আকার বড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

খাওয়ার আগে সতর্কতা:
বাজার থেকে লিচু আনার পর অন্তত ৩০ মিনিট ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে রাসায়নিক বা ধূলাবালি থাকলে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। এছাড়া খোসা ছাড়ানোর অনেকক্ষণ পর লিচু রাখা ঠিক নয়, কারণ এটি দ্রুত বাতাসের সংস্পর্শে নষ্ট হয়ে যায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy