ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তেজনার মধ্যেই ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে দিল একটি চাঞ্চল্যকর খবর। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই সুইডেনের কাছে ১-৫ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারের পর, তিউনিসিয়া তাদের প্রধান কোচ সাবরি লামুচিকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে মাত্র একটি ম্যাচ পরেই কোচ বদলের এমন ঘটনা ফুটবল ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল।
কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত? তিউনিসিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (FTF) এ বছরের শুরুতে সাবরি লামুচিকে ২০২৮ সালের জুলাই পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। তবে বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। গত দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষের কাছে ১০টি গোল হজম করার ফলে বিশ্বজুড়ে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভক্তরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের এই শোচনীয় অবস্থার জন্য কোচ লামুচিকেই দায়ী করেছেন।
এছাড়া, তারকা খেলোয়াড় গাইথ জালুনিকে দলে জায়গা না দেওয়ায় কোচের বিরুদ্ধে আগে থেকেই পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ছিল। সুইডেনের কাছে হারের পর লামুচি নিজেও স্বীকার করেছেন যে, বিশ্বমানের প্রতিপক্ষের সামনে তার দলের ভুলগুলো ছিল ‘ক্ষমার অযোগ্য’।
পরবর্তী ম্যাচেই নতুন ডাগআউট: তিউনিসিয়ান ফুটবল বোর্ড কোনো রকম ঢিলেমি করতে রাজি নয়। বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ২০ জুন জাপানের বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচে আর ডাগআউটে দেখা যাবে না লামুচিকে। তাকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আইভরি কোস্টকে ২০১৪ বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়া এবং নটিংহাম ফরেস্টের মতো ক্লাবের কোচ হিসেবে অভিজ্ঞ থাকা লামুচির জন্য এই বিদায় নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তিক্ত।
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত তিউনিসিয়ার পরবর্তী পারফরম্যান্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





