ধূমপান বলতেই আমাদের মাথায় প্রথমে আসে ফুসফুসের ক্যান্সারের কথা। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, ধূমপান ফুসফুসের চেয়েও দ্রুত এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে আমাদের হৃদপিণ্ডের। বিশ্বের মোট হৃদরোগজনিত মৃত্যুর প্রায় এক-চতুর্থাংশের জন্য দায়ী কেবল এই তামাকের নেশা। সিগার বা সিগারেটের প্রতিটি টান কীভাবে আপনার হার্টের ওপর আঘাত হানে, তা জানা থাকলে আজই হয়তো আপনি ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।
১. রক্তনালীতে আস্তর জমা (Atherosclerosis)
তামাকের ধোঁয়ায় থাকে কয়েক হাজার বিষাক্ত রাসায়নিক। এগুলো রক্তনালীর ভেতরের মসৃণ স্তরের ক্ষতি করে। ফলে সেখানে চর্বি ও ক্যালসিয়াম জমে রক্তনালী সরু ও শক্ত হয়ে যায়। একে চিকিৎসকরা বলেন ‘অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস’, যা হার্ট অ্যাটাকের প্রধান কারণ।
২. অক্সিজেনের ঘাটতি ও কার্বন মনোক্সাইড
সিগারেটের ধোঁয়ার সাথে কার্বন মনোক্সাইড রক্তে মিশে যায়। এটি রক্তের অক্সিজেন বহন করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে শরীরের চাহিদা মেটাতে হার্টকে দ্বিগুণ শক্তিতে পাম্প করতে হয়, যা হৃদপিণ্ডকে ক্লান্ত ও দুর্বল করে ফেলে।
৩. রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি
তামাকের প্রধান উপাদান নিকোটিন শরীরে প্রবেশের সাথে সাথে অ্যাড্রেনালিন হরমোন বাড়িয়ে দেয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে রক্তচাপ ও হার্ট রেট বেড়ে যায়। দীর্ঘদিনের এই উচ্চ রক্তচাপ হার্টের পেশিকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
৪. রক্ত জমাট বাঁধা (Blood Clotting)
ধূমপান রক্তকে আঠালো করে তোলে। ফলে রক্তনালীর ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বেড়ে যায়। যদি এই জমাট বাঁধা রক্ত হার্টের কোনো ধমনীতে আটকে যায়, তবে সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ হার্ট অ্যাটাক।
৫. ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেওয়া
ধূমপান শরীরের উপকারী কোলেস্টেরল বা HDL-এর মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা LDL-এর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই ভারসাম্যহীনতা হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে।
ভালো খবর কী?
সুসংবাদ হলো, আপনি আজই যদি ধূমপান ত্যাগ করেন, তবে মাত্র ১ বছরের মাথায় আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেক হয়ে যাবে। আর ১৫ বছর পর আপনার হার্ট একজন অধূমপায়ীর মতোই সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।
শেষ কথা: আপনার একটি ভুল অভ্যাস যেন আপনার পরিবারের কান্নার কারণ না হয়। ধোঁয়াহীন সুস্থ জীবনের পথে আজই এক ধাপ এগিয়ে যান।





