প্রতিদিন সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে আমরা ঠাকুরকে ফুল দিই। কিন্তু আপনি কি জানেন, ফুল চয়ন থেকে শুরু করে নিবেদন পর্যন্ত এমন কিছু ছোট ছোট ভুল আমরা করি, যা শাস্ত্রমতে বর্জ্যনীয়? ভক্তিভরে পুজো করার সময় আপনার এই সাধারণ ভুলগুলোই কিন্তু আশীর্বাদের বদলে নেতিবাচক শক্তি ডেকে আনতে পারে। জেনে নিন কী বলছে শাস্ত্র।
ঠাকুরকে ফুল দেওয়ার সময় যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন:
১. বাসি বা ঝরা ফুল নিবেদন:
গাছ থেকে ঝরে নিচে পড়ে থাকা ফুল কখনোই ঠাকুরকে দেওয়া উচিত নয়। শাস্ত্রমতে, ঝরা ফুল অপবিত্র। এছাড়া গতকালের তোলা বাসি ফুলও পুজোর অযোগ্য। তবে মনে রাখবেন, তুলসী ও বেলপাতা কখনও বাসি হয় না, এগুলো ধুয়ে পুনরায় ব্যবহার করা যায়।
২. নখ দিয়ে ফুল ছেঁড়া:
অনেকে গাছ থেকে ফুল তোলার সময় নখ ব্যবহার করেন। শাস্ত্র অনুযায়ী, নখ দিয়ে ফুল ছেঁড়া অত্যন্ত অশুভ এবং এতে দেবতারা রুষ্ট হন। ফুল সবসময় আঙুল দিয়ে সযত্নে তোলা উচিত।
৩. অপরিষ্কার পাত্র বা প্লাস্টিকের ব্যবহার:
পুজোর ফুল প্লাস্টিকের ব্যাগে বা পাত্রে রাখা একেবারেই অনুচিত। তামা, পিতল বা মাটির পাত্রে ফুল রাখা সবচেয়ে শুভ। প্লাস্টিক অশুদ্ধ ধাতু হিসেবে গণ্য হয় যা পুজোর পবিত্রতা নষ্ট করে।
৪. সুগন্ধহীন বা অপবিত্র ফুল:
যে ফুলে কোনো সুগন্ধ নেই বা যে ফুলের গন্ধ অত্যন্ত উগ্র, তা দেবতাকে অর্পণ না করাই ভালো। এছাড়া কুঁড়ি অবস্থা (একমাত্র পদ্ম ও কুন্দ ছাড়া) বা পোকাধরা ফুল নিবেদন করা শাস্ত্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ।
৫. স্নানের আগে ফুল তোলা:
শাস্ত্রমতে, স্নান করার আগেই পুজোর ফুল তোলা উচিত। কারণ স্নান সেরে ফুল তুললে তাতে নিজের শরীরের স্পর্শ বা ঘাম লাগার সম্ভাবনা থাকে, যা দেবসেবায় অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
কোন দেবতাকে কোন ফুল দেবেন?
মা কালী ও গণেশ: জবা ফুল এদের অত্যন্ত প্রিয়।
মহাদেব: বেলপাতা এবং নীলকণ্ঠ বা অপরাজিতা ফুল।
মা লক্ষ্মী: পদ্মফুল বা যেকোনো সুগন্ধি সাদা ফুল।
বিষ্ণু: হলুদ রঙের ফুল ও তুলসী পাতা।
সম্পাদকের টিপস: পুজোর সময় মন পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে বড় পুজো। যদি ফুল না থাকে, তবে একটি পরিষ্কার তুলসী পাতা বা ভক্তিভরে শুধু জল নিবেদন করলেও ঈশ্বর তুষ্ট হন।