অ্যাকজিমা বা ত্বকের প্রদাহজনিত সমস্যা বর্তমানে একটি অত্যন্ত সাধারণ কিন্তু যন্ত্রণাদায়ক ব্যাধি। দীর্ঘস্থায়ী এই চর্মরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়শই হতাশ হয়ে পড়েন এই ভেবে যে, এটি আদেও কোনোদিন সম্পূর্ণ নির্মূল হবে কি না। মূলত এটি ত্বকের এমন এক অবস্থা যেখানে চামড়া শুষ্ক হয়ে যায়, লালচে ভাব দেখা দেয় এবং প্রচণ্ড চুলকানি শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে চুলকাতে চুলকাতে ত্বক ফেটে রক্ত বা রস বের হতেও দেখা যায়।
অ্যাকজিমা কি সত্যিই সারে?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, অ্যাকজিমা পুরোপুরি ‘কিউর’ বা মূল থেকে উপড়ে ফেলা সবসময় সম্ভব না হলেও, সঠিক জীবনযাপন এবং চিকিৎসার মাধ্যমে একে সম্পূর্ণ ‘কন্ট্রোল’ বা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের বয়সের সাথে সাথে এটি নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে বড়দের ক্ষেত্রে এটি মাঝে মাঝেই ফিরে আসতে পারে। এর প্রধান কারণ হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমের অতি-সক্রিয়তা এবং বংশগত কারণ।
নিয়ন্ত্রণে রাখার কার্যকরী উপায়:
১. ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার: অ্যাকজিমার প্রধান শত্রু হলো শুষ্ক ত্বক। স্নানের ঠিক পরেই এবং দিনে অন্তত দু-তিনবার ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা অপরিহার্য। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখে।
২. সাবান নির্বাচনে সতর্কতা: কড়া কেমিক্যালযুক্ত সাবান বা ফেসওয়াশ এড়িয়ে চলুন। মাইল্ড বা গ্লিসারিনযুক্ত সাবান ব্যবহার করা ভালো।
৩. সুতির পোশাক: সিন্থেটিক বা উলের পোশাক সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে এলে চুলকানি বাড়তে পারে। তাই সবসময় ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরার চেষ্টা করুন।
৪. অ্যালার্জি শনাক্তকরণ: অনেকের নির্দিষ্ট কিছু খাবার (যেমন চিংড়ি, ডিম, বা বেগুন) কিংবা ধুলোবালি থেকে অ্যাকজিমা বেড়ে যায়। আপনার ক্ষেত্রে ট্রিগার কোনটি, তা শনাক্ত করে এড়িয়ে চলুন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি ঘরোয়া পদ্ধতিতে কাজ না হয় এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, তবে দেরি না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। বর্তমান সময়ে স্টেরয়েড ক্রিম ছাড়াও নানা উন্নত মানের অয়েন্টমেন্ট এবং থেরাপি উপলব্ধ রয়েছে যা আপনাকে এক যন্ত্রণামুক্ত জীবন উপহার দিতে পারে। মনে রাখবেন, সঠিক পরিচর্যাই হলো অ্যাকজিমার প্রধান চিকিৎসা।





