মাত্র ৬০ নয়, সুস্থ থাকা যাবে ১৫০ বছর পর্যন্ত! কিভাবে? জানুন

ষাট বছর বয়স হলেই যেন প্রহর গোনা শুরু। প্রবীণ প্রজন্মের অনেকেই এই সময়কালকে জীবনের শেষ অধ্যায় হিসেবে ধরে নেন। তবে এবার প্রবীণদের জন্য এল এক আশার আলো। ‘রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্স জার্নাল’-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণা দাবি করছে, মানুষ যদি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, তবে ১৩০ থেকে ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচা কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। মার্কিন সায়েন্স ম্যাগাজিন ‘সায়েন্টিফিক আমেরিকান’-ও এই গবেষণার উপর বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

গবেষণাটি মূলত মানুষের সর্বোচ্চ আয়ুষ্কাল কত হতে পারে, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার উপর কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। গবেষকরা এই প্রশ্নের উত্তর পেতে ১৩টি দেশের ১০৫ থেকে ১১০ বছরের বেশি বয়সী এক হাজারের বেশি নারী-পুরুষের তথ্য গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন বয়সীদের গত ৬০ বছরের আয়ুষ্কাল সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখেছেন তারা।

দীর্ঘ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পর গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, যদি কোনো অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা না ঘটে এবং মানুষ তাদের জীবনযাত্রাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে খুব সহজেই ১৩০ থেকে ১৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচা সম্ভব। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মূলত ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সের পর থেকেই স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হলে যে কেউই দীর্ঘ জীবন লাভ করতে পারেন। তবে তাত্ত্বিকভাবে মানুষের আয়ুর কোনো শেষ সীমা নেই বলেও উল্লেখ করেছেন তারা।

গবেষকরা ব্যাখ্যা করেছেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের শরীরের কোষগুলি দুর্বল হতে শুরু করে। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বর্তমানে দূষিত বায়ু এবং পরিবেশ দূষণও একটি বড় উদ্বেগের কারণ। তবে এর মধ্যেও যদি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং একটি সুস্থ জীবনধারা গড়ে তোলা যায়, তাহলে রোগ-ব্যাধি কম হবে এবং আমাদের আয়ু আরও বাড়বে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

এই দাবির সমর্থনে বাস্তব উদাহরণও তুলে ধরেছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্বের অন্যান্য অংশের তুলনায় জাপানের মানুষের গড় আয়ু তুলনামূলকভাবে বেশি, যার প্রধান কারণ তাদের সুশৃঙ্খল জীবনযাপন। আধুনিক মানব ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকার রেকর্ড রয়েছে ফরাসি নারী জেনি ক্যালম integration-এর, যিনি ১৯৯৭ সালে ১২২ বছর বয়সে প্রয়াত হন। আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল জাপানের কানে তানাকা, যিনি বর্তমানে ১১৮ বছর বয়সেও সুস্থ জীবনযাপন করছেন।

গবেষকরা আশাবাদী যে, সঠিক জীবনযাত্রা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার মাধ্যমে মানুষ চাইলে সহজেই শতবর্ষী হতে পারে এবং এমনকি ১৫০ বছর পর্যন্তও সুস্থ জীবন যাপন করতে সক্ষম হতে পারে। তাই, ৬০ বছর বয়সকে জীবনের শেষ সীমা না ভেবে, স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন যাপনের দিকে মনোযোগ দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।