বিদ্রোহী সাংসদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন শিবসৈনিকরা! উদ্ভব ঠাকরের সফর ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত। একদিকে শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) গোষ্ঠীর সাংসদ সঞ্জয় দেশমুখের বিদ্রোহ, অন্যদিকে দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে কোণঠাসা উদ্ভব ঠাকরে। এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই আগামী ২৭ জুন যবতমাল জেলায় পা রাখছেন উদ্ভব। বিদ্রোহী নেতা ও কর্মীদের সামলে সংগঠনকে পুনর্গঠন করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর?

যবতমালের সাংসদ সঞ্জয় দেশমুখের দলবিরোধী অবস্থানের কারণে স্থানীয় স্তরে শিবসৈনিকদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিদ্রোহী সাংসদ ও তাঁর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন উদ্ভবপন্থীরা। সম্প্রতি সাংসদের কুশপুতুল দাহ ও বিক্ষোভ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে যবতমালের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। উদ্ভব ঠাকরে এই সফরে সরাসরি নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলবেন, যাতে দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা যায় এবং বিভ্রান্তি দূর করা যায়।

রাজ ঠাকরের সমর্থন ও ‘লাশ’ তত্ত্ব

এই রাজনৈতিক সংকটের আবহে নিজের ভাই তথা মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (MNS) প্রধান রাজ ঠাকরের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত সমর্থন পেয়েছেন উদ্ভব। শনিবার রাজ ঠাকরে অভিযোগ করেছেন যে, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভাঙার নোংরা খেলা চলছে। একটি প্রবাদ টেনে তিনি বলেন, “যখন মানুষের আত্মসম্মান হারিয়ে যায়, তখন শুধু ‘জীবন্ত লাশ’ই বেঁচে থাকে।” এমএনএস প্রধানের দাবি, রাজনৈতিক দলগুলো এখন ক্ষমতার নেশায় বুঁদ হয়ে মহারাষ্ট্রের আসল ইস্যুগুলোকে ধামাচাপা দিচ্ছে।

সংকটের মোকাবিলায় উদ্ধব শিবির

দলের অন্দরে যেভাবে বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিচ্ছে, তাতে উদ্ভব ঠাকরে গোষ্ঠী এখন ‘আক্রমণাত্মক’ হওয়ার রণকৌশল নিয়েছে। যবতমালের সভায় উদ্ভব ঠাকরে কি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কোনো কড়া বার্তা দেবেন? নাকি দলের ভাঙন আটকাতে তিনি কোনো নতুন সমীকরণ তৈরি করবেন? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর এখন সেই দিকেই।